স্মার্টফোন ও বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের বাজার চাঙ্গা করতে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। সংশ্লিষ্ট ডিভাইসগুলির একাধিক যন্ত্রাংশের উপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে সরকার। এর জেরে ডিসপ্লে আনুষঙ্গিক, লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি, ইন্ডাক্টর বা মোটর কয়েলের মতো সামগ্রীর কমবে দাম। ফলে কতটা সস্তা হতে পারে স্মার্টফোন বা বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
স্মার্টফোন-সহ একাধিক বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম ঘরের মাটিতে তৈরি হলেও এগুলির বহু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এখনও বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে ভারত। আর তাই শুল্কহ্রাসে খুচরো বাজারে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসগুলির দাম কমা উচিত। যদিও চলতি বছরে সেই সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন এসকে হাইনিক্সের সিইও কোয়াক নোহ-জং।
এই দক্ষিণ কোরীয় সংস্থাটির চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে দুনিয়া জুড়ে যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপ্ল নির্মিত আইফোনেও তাদের তৈরি চিপ ব্যবহার হয়ে থাকে। এ-হেন এসকে হাইনিক্সের সিইও-র দাবি, ২০২৭ সালের আগে চিপ সঙ্কটের ভয়াবহতা সে ভাবে বুঝতেই পারবে না দুনিয়া। সেটা চলবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
বর্তমানে স্মার্টফোনের মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে এই একটি কারণ। সেটা হল, র্যাম ও মেমোরি চিপের মতো সেমিকন্ডাক্টরের স্বল্পতা। কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তির বাড়বাড়ন্তের জেরে বিপুল পরিমাণে সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহের বরাত পেয়েছে এসকে হাইনিক্স বা স্যামসাঙের মতো সংস্থা। এর জেরে ফোন বা অন্যান্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের কারখানাগুলিতে দেখা দিয়েছে চিপ সঙ্কট।
আরও পড়ুন:
এই সমস্যার জেরে আগামী দিনে আইফোনের দাম বাড়বে বলে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে অ্যাপ্ল। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বাজারে থাকা আইফোন-১৬ এবং আইফোন-১৭ মডেলগুলি কিনতে গ্রাহকদের মধ্যে পড়ে গিয়েছে হুড়োহুড়ি। এগুলির বেস ভ্যারিয়েন্ট দেদার বিক্রি হচ্ছে বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর।
এসকে হাইনিক্সের সিইও-র কথা সত্যি হলে শুল্কছাড়েও ভারতের বাজারে আপাতত কমবে না স্মার্টফোনের দাম। শুধু তা-ই নয়, আগামী দিনে বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের মূল্যও আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউই।