র্যাম ও স্টোরেজের মূল্যবৃদ্ধিতে অগ্নিমূল্য স্মার্টফোন। অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে বিক্রি। গোদের উপর বিষফোড়ার মতো দিন দিন প্রযুক্তিগত সুযোগ সুবিধা কমাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা। এর জেরে মোটা টাকা খরচ করেও বহু কিছুর থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহক। বাদ পড়ছে কোন কোন বৈশিষ্ট্য? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
টেক বিশ্লেষকদের দাবি, র্যাম ও স্টোরেজের দাম বাড়ায় এগুলির আকার ছোট করে দিয়েছে অধিকাংশ স্মার্টফোন নির্মাণকারী সংস্থা। ফলে আগে যে দামে ১২৮ জিবির ডিভাইস কেনা যেত, সেই টাকায় এখন মিলছে ৬৮ জিবির মডেল। পাশাপাশি, গুণগত মানের নিরিখেও আপস করতে হচ্ছে গ্রাহককে।
উদাহরণ হিসেবে ইউএফএস ৩.১ বা ২.২ স্টোরেজের কথা বলা যেতে পারে। মূল্যবৃদ্ধির আগে অধিকাংশ বাজেট-বান্ধব স্মার্টফোনে থাকত এই চিপ। কিন্তু, বর্তমানে সেই জায়গা নিচ্ছে ইএমএমসি স্টোরেজ। সেগুলিকে একেবারেই দুর্দান্ত বলা যাবে না। একই কথা র্যামের প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
কিছু দিন আগে পর্যন্ত অধিকাংশ স্মার্টফোনে থাকত এলপিডিডিআর ৫এক্স র্যাম। সেখানে এখন বাজারে আসছে এলপিডিডিআর ৪এক্স র্যামযুক্ত ডিভাইস। ১২০ হার্ৎজ়ের ফুল এইচডি প্লাস অ্যামোলেট ডিসপ্লে অবশ্য পাচ্ছেন গ্রাহক। তবে উধাও হয়েছে গিয়েছে এলপিটিও ডিসপ্লে। সেই জায়গায় এলপিটিএস ডিসপ্লেতেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে সবাইকে।
স্মার্টফোনের ক্যামেরার ক্ষেত্রেও এসেছে বড় বদল। আগে যে দামে টেলিফোটো বা পেরিস্কোপিক জ়ুম ক্যামেরা পাওয়া যেত, এখন একই টাকা খচ করে সে সব পাচ্ছেন না গ্রাহক। ধীরে ধীরে উধাও হয়ে যাচ্ছে আল্ট্রা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স।
প্রযুক্তিবিদদের দাবি, স্মার্টফোনে ২-৩ ক্যামেরা থাকলেও বেশির ভাগ কাজ করছে একটাই। অন্য দিকে, ব্যাটারির সক্ষমতা বাড়িয়েছে অধিকাংশ নির্মাণকারী সংস্থা। তবে ১২০ ওয়াটের চার্জার প্রায় নেই বললেই চলে। বেশির ভাগ মডেলের সঙ্গে থাকছে ৪০-৬০ ওয়াটের চার্জার।
তা ছাড়া, কিছু দিন আগে পর্যন্ত ১০ হাজার টাকার বেশি দামি ফোনের পিঠে থাকত কাচ। এখন সেই জায়গা পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে পলিকার্বনেট বা ভেগান লেদার। কিছু কিছু ‘ফ্ল্যাগশিপ’ ফোনে অবশ্য এখনও কাচ ব্যবহার হচ্ছে। বলা বাহুল্য, সংখ্যাটা যথেষ্টই কম।