বাড়তি টাকা দিলে তবেই মিলছে দ্রুতগতির পরিষেবা। ফের ইন্টারনেট ব্যবহারে উঠল ভিআইপি সংস্কৃতির অভিযোগ! শুধু তা-ই নয়, সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতের ধনকুবের শিল্পপতি মুকেশ অম্বানীর সংস্থা রিলায়েন্স জিয়ো। পাশাপাশি, এই নিয়ে তাদের সতর্ক করেছে কেন্দ্রের ‘টেলিকম রেগুলেটরি অথিরিটি অফ ইন্ডিয়া’ বা ট্রাই।
উল্লেখ্য, ইন্টারনেটের গতি নিয়ে এ দেশের ব্যবহারকারীদের ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কথায়, একই মডেলের স্মার্টফোন এবং একই সংস্থার সিমকার্ড থাকা সত্ত্বেও পাশাপাশি বসে থাকা দু’জনে প্রায়শই দু’রকম পরিষেবা পেয়ে থাকেন। একজনের ডিভাইসে চটপট খুলে যায় ওয়েবপেজ়। অন্যজনকে তার জন্য হা পিত্যেশ করে অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে।
টেক বিশ্লেষকেরা কিন্তু আমজনতার এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে নারাজ। টেলি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির চালু করা বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য এটা হয়ে থাকে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। দুর্দান্ত গতির ইন্টারনেট পেতে সেগুলিতে অন্তর্ভুক্ত হন বহু গ্রাহক। যার জেরে ‘দুয়োরানী’ হয়ে গিয়েছেন সাধারণ ব্যবহারকারীরা। মুকেশের জিয়োর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠায় চাপ বেড়েছে তাদের।
ট্রাই সূত্রে খবর, সাধারণ ব্যবহারকারীদের বঞ্চিত করে বাড়তি টাকা দেওয়া গ্রাহকদের উচ্চ গতির ইন্টারনেট পরিষেবা দিচ্ছে অম্বানীদের সংস্থা। যার পোশাকি নাম ‘নেটওয়ার্ক স্লাইসিং’। নৈতিক ভাবে যেটা করা অনুচিত। তাই ফাইভ জি-র জন্য মাসে পাঁচ বা তার বেশি দিন কোনও ইন্টারনেট টাওয়ার ৮০ শতাংশের বেশি ব্যস্ত থাকলে তার সক্ষমতা বৃদ্ধির নির্দেশে দিয়েছে ওই কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান। আর সেটা করতে হবে সংশ্লিষ্ট টেলিকম কোম্পানিকেই।
আরও পড়ুন:
তবে টাওয়ারের সক্ষমতা বাড়াতে না চাইলে কোনও ভাবেই ‘নেটওয়ার্ক স্লাইসিং’ করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে ট্রাই। যদিও কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ খারিজ করেছে জিয়ো। মুকেশ অম্বানীর সংস্থার যুক্তি, বর্তমানে প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়ে গিয়েছে। ফলে বিশেষ কয়েকজন গ্রাহককে উচ্চ গতির ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে ‘নেটওয়ার্ক স্লাইসিং’য়ের প্রয়োজন নেই।