মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে ৫৫ ইঞ্চির স্মার্টটিভি। অথচ তার থেকে ডিসপ্লে অনেক ছোট হওয়া সত্ত্বেও আইফোনের দাম লাখ টাকার বেশি! কেন এই বৈষম্য? টেক বিশ্লেষকদের দাবি, এর উত্তর লুকিয়ে আছে প্রযুক্তিতে। একটির ক্ষেত্রে বিক্রির পরও রোজগারের সুযোগ রয়েছে নির্মাণকারী সংস্থার। অন্যটিতে দেখা দিয়েছে কাঁচামালের সঙ্কট।
উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি এমনটা ছিল না। তখন কেবলমাত্র বিত্তবানেরাই কিনতে পারতেন ৪২ ইঞ্চির টিভি। কিন্তু, বর্তমানে সেই দিনকাল পালটেছে। যার জেরে ৩০-৫০ হাজার টাকা খরচ করে ৫৫ ইঞ্চির ফ্ল্যাট স্ক্রিনের টেলিভিশন ঘরের দেওয়ালে টাঙানোর সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহক। যাতে থাকছে এলইডি, আরজিবি, ফোরকে এবং ১৪৪ হার্ৎজ়ের সুবিধা।
মজার বিষয় হল, এখনকার বহু স্মার্টটিভিতে থাকছে ‘অটোমেটিক কন্টেন্ট রেকগনাইজ়েশন’ বা এসিআর প্রযুক্তি। যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট টিভিতে গ্রাহক কী কী অনুষ্ঠান কতক্ষণ ধরে দেখছেন, তা শনাক্ত করা অনেক বেশি সহজ হচ্ছে। পাশাপাশি, কোনও ভিডিয়ো গেম খেলা হলে, সেটাও স্বয়ংক্রিয় ভাবে রেকর্ড করছে ওই এসিআর।
এই ভাবে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির সাহায্যে গ্রাহকের পছন্দ ঘরে বসেই জানতে পারছে বোকাবাক্স নির্মাণকারী সংস্থা। সেই তথ্য নিয়মিত বিজ্ঞাপন সংস্থাকে বিক্রি করে থাকে তারা। ফলে, নিয়মিত ভাবে অর্থ আসতে থাকে তাদের ঘরে। অন্য দিকে, স্মার্টফোন সেই সুবিধা নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তির বাড়বাড়ন্তের জেরে বিপুল পরিমাণে র্যাম এবং স্টোরেজ কিনছে ওএআই বা ক্লডের মতো মার্কিন টেক জায়ান্ট। ফলে এগুলির সঙ্কটে ভুগছে স্মার্টফোন নির্মাণকারীরা। প্রসঙ্গত, মুঠোবন্দি ডিভাইসের অন্যতম কাঁচামাল হল এই র্যাম ও স্টোরেজ।
বর্তমানে কৃত্রিম মেধাভিত্তিক সংস্থাগুলির জন্যে কেবলমাত্র র্যাম ও স্টোরেজ তৈরি করছে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের মতো বহুজাতিক সংস্থা। টেক বিশ্লেষকদের দাবি, এর জন্য লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ওই দুই ডিভাইসের দাম। যার প্রভাবে অগ্নিমূল্য হয়েছে ‘বাজেট-বান্ধব’ স্মার্টফোনও।