২-৩ ঘণ্টার বিমান সফর আরামদায়ক। তবে সেই সফর যদি দীর্ঘ হয় একঘেয়েমি এবং ক্লান্তির শেষ থাকে না। কখনও কখনও লম্বা পথে দোসর হয় শারীরিক অস্বস্তিও।
সফরের সময় মেকআপের সামগ্রী, শিট মাস্ক সঙ্গে রাখছেন? তালিকায় জুড়ে নিন আরও ৫, যা খেয়াল রাখবে স্বাস্থ্যের। ফার্মাসিস্ট এবং নেটপ্রভাবী গীতা চোখ থেকে নাকের ড্রপ-সহ পাঁচ জিনিসের কথা বলেছেন, যা সঙ্গে থাকলে সুবিধা হবে। সেগুলি কি আদতেই কাজের?
১। বিমান সফরে অধিক উচ্চতায় যদি নাক বন্ধ হয়ে থাকে, শ্বাস নিতে কষ্ট হবে। মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালুর নাক, কান, গলার চিকিৎসক শামা কোভালে বলছেন, জ়াইলোমেটাজলিন, অক্সিমেটাজলিনের মতো নাকের স্প্রে সঙ্গে রাখা যেতে পারে। এই উপকরণগুলি নাকের ভিতরের রক্তনালীগুলিকে সঠিক অবস্থানে রাখতে সাহায্য করে। ফলে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।পাশাপাশি, স্যালাইন বা নুন জল ড্রপে করে দেওয়া যেতে পারে। এতেও বন্ধ নাক খুলে যাবে, শ্বাস নিতে সুবিধা হবে। এগুলি নিরাপদ, মনে করাচ্ছেন চিকিৎসক।
আরও পড়ুন:
২। বিমানে বাতানুকূল যন্ত্র চলায় আর্দ্রতার পরিমাণ বেশ কমে যায়। তার উপরে লম্বা সময় কাটাতে একাটানা স্ক্রিনের দিকে চোখ রাখলে, চোখের জল শুকিয়ে যায়। চোখ কড়কড় করতে পারে। সেজন্য সঙ্গে রাখা দরকার চোখের ড্রপ।
৩। বিমানে বসে থাকলেও, সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগনি রশ্মির প্রভাব এড়ানো কঠিন। বিমান যেহেতু মেঘের অনের উপর দিয়ে ওঠে, বাতাস এখানে হালকা হয়। সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির প্রভাবও বেশি থাকে। তাই বিমানে চড়ার সময়েই এসপিএফ ৫০ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা দরকার। লম্বা সময় সফর করলে, ৩-৪ ঘ্ণ্টা অন্তর তা আবার লাগাতে হবে।
৪। দিল্লির মেডিসিনের চিকিৎসক নরেন্দ্র সিংলা বলছেন, কম্প্রেস সক্সও বিমান সফরে বিশেষ কাজের হতে পারে। লম্বা সময় পা ঝুলিয়ে থাকার ফলে পা ফুলে যায়, রক্ত সঞ্চালনও কমে যায়। রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখার জন্য এই ধরনের মোজা কার্যকর। তা ছাড়া ডিপ ভেন থ্রম্বোসিস (শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা)-এর প্রবণতা থাকলে, এই ধরনের মোজা পরা খুব জরুরি।
৫। ইলকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে শরীর খারাপ করতে পারে। বিশেষত যদি রক্তচাপ কমে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, তা হলে খনিজ মিশ্রিত পানীয় সঙ্গে রাখা ভাল। খনিজের অভাব হলে হার্ট থেকে স্নায়ুর কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। উড়ানে বমি বা পেটখারাপ হলেও এই পানীয় কাজে আসবে।