দুয়ার খুলেই রেখেছে প্রকৃতি। অপেক্ষা শুধু সেখানে পৌঁছোনোর।
কালিম্পং জেলার লাভার অদূরে রয়েছে এমনই এক স্থান, নাম দুয়ারখোলা। কেউ একে দোরখোলাও বলেন। ছোট্ট জনপদটিকে যেন বেড় দিয়ে রেখেছে পাহাড়। ঢেউ খেলানো উপত্যকা জুড়ে পাইনের বিস্তৃতি। বর্ষায় ঘন অরণ্যে চাদর বিছিয়ে দেয় মেঘ।
আরও পড়ুন:
শহুরে জীবনের দৈনন্দিন চাপ, কোলাহল, দূষণ— সমস্ত কিছুর থেকে দূরে দু’টি দিন নিশ্চিন্তে প্রকৃতি উপভোগের এ এক অচেনা ঠিকানা। লাভা থেকে দূরত্ব কম বেশি ৩০-৩৫ কিলোমিটার। লাভা থেকে যে রাস্তা ঝান্ডির দিকে গিয়েছে সেই পথেই যেতে হয়। এখানেই ইদানীং উৎসাহী পর্যটকদের অনেকে ঢুঁ মারতে শুরু করেছেন।
পায়ে চলা পথ এগিয়েছে চা-বাগিচার মধ্যে দিয়ে। ছবি:সংগৃহীত।
যদি প্রশ্ন থাকে, এখানে গিয়ে কী দেখার আছে, কী করার আছে, তা হলে উত্তর হতে পারে, এই স্থান কিচ্ছুটি না করার জন্যই। গরম চায়ের পেয়ালা হাতে হোম স্টের বারান্দায় বসে প্রকৃতি উপভোগ করতে করতেই কাটিয়ে দেওয়া যায় সারাটা দিন। সেই অলস দিনে মুখে গরম খাবার জোগানোর জন্য রয়েছেন গ্রামের অতিথি পরায়ন হোমস্টের কর্মীরা।
তবে যদি পায়ে পায়ে ঘুরে নিতে চান বেরিয়ে পড়তে পারেন সামাবিয়ং ভিউপয়েন্টের উদ্দেশে। দুয়ারখোলা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে। গাড়ি যেখানে থামবে সেখান থেকে হাঁটতে হবে। সবুজ পাহাড়ের দুই ঢালে চা-বাগিচা। পায়ে চলা পথ গিয়েছে পাহাড়ের ঠিক মাঝখান দিয়ে। বর্ষায় জোঁকের ভয় থাকতে পারে। তবে একটু সন্তর্পণে চললে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। আর যদি সেই সময় মেঘ-কুয়াশার বাড়াবাড়ি না থাকে, চোখে ধরা দেবে ঘন সবুজ এবং ছবির মতো সুন্দর এক উপত্যকা।
তাসি চোলিং মনাস্ট্রি। ছবি:সংগৃহীত।
সামাবিয়ং থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে শেরপাগাঁওতে রয়েছে তাসি চোলিং মনাস্ট্রি বা বৌদ্ধ মঠ। লালরঙা ছোট্ট মনাস্ট্রি, মাথায় তার রঙিন পতাকার বাহারি সাজ। মেঘলা দিনের রূপ একরকম। কখনও যদি সেই মেঘ সরে, ধরা দেবে নীল আকাশ। আর যদি বিকেলে সেখান যান, আকাশে রঙের খেলাও দৃষ্টিগোচর হতে পারে।
পাহাড়ি শহর যখন, বৃষ্টি না হলে, সন্ধেটা বরাদ্দ করতেই পারেন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আড্ডা আর ঠান্ডা হাওয়ায় বসে ক্যাম্পফায়ার করার জন্য। এই গ্রামে হাঁটতে বেরোলে কখনও-সখনও দেখা হয়ে যাবে সাদা লোমশ সারমেয়দের সঙ্গে। এ এক এমন জনপদ, দেখলে মনে হবে, এখানে কারও যেন জীবনে কাজ শেষ করার খুব বেশি তাড়া নেই। গতিময় জীবনে কখনও যে ক্ষণিক থমকে যাওয়ার প্রয়োজন, মনে করিয়ে দিতে পারে দুয়ারখোলা।
অলস যাপনে আপত্তি থাকলে অবশ্য পথখোলাই আছে। লাভা, লোলেগাঁও, রিশপ, গরুবাথান — দ্রুষ্টব্য কম কিছু নেই। গাড়ি নিয়ে দিনভর টইটই করে ঘোরা যায় আশপাশ। আর যদি প্রকৃতির ছবি তোলায় বা পাখি দেখায় মন থাকে, তা হলে দু’টি দিন কখন ফুরিয়ে যাবে, বুঝতেই পারবেন না।
কোথায় থাকবেন?
দুয়ারখোলার মণ্ডলগাঁওতে একটি ভাল হোমস্টে রয়েছে। আশপাশে আরও একটি, দু’টি হোমস্টে পেতে পারেন।
কী ভাবে যাবেন?
নিউ মাল জংশনে নেমে গাড়িতে যেতে পারেন। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে গাড়ি ভাড়া করে দুয়ারখোলা যেতে পারেন। শিলিগুড়ির পানিট্যাংকির মোড় থেকে শেয়ার জিপে কালিম্পং বাসস্ট্যান্ড আসতে পারেন। সেখান থেকে শেয়ার জিপ মিলবে লাভা যাওয়ার। তবে দুয়ারখোলা গাড়ি ভাড়া করে যাওয়াই সুবিধাজনক।