শরতের আকাশে সাদা মেঘ দেখলেই মনে হয়, বেরিয়ে পড়ি? প্রতিদিনের যাতায়াত হোক বা লম্বা কিংবা ছোট সফর, সামান্য অসাবধানতাই বড় বিপদের কারণ হতে পারে। গাড়িতে উঠে সিটবেল্ট বেঁধে নিলে বা ট্রাফিক আইন মানলেই, সুরক্ষার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। গাড়ি এবং সফর সংক্রান্ত কলম লেখক শুভম পরাশরের মতে, সঠিক ভঙ্গিতে বসা থেকে গাড়ি চালানোর সময় সহজ কয়েকটি অভ্যাসই সুরক্ষার দিকটি নিশ্চিত করতে পারে।
সঠিক ভঙ্গিতে বসুন
স্টিয়ারিং হুইল থেকে খুব বেশি কাছে বা দূরে নয়, বসতে হবে সঠিক ভাবে। স্টিয়ারিংয়ের উপর দুই হাত প্রসারিত করে কব্জি রাখুন, যেন কনুই সামান্য বাঁকা থাকে। এটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
যানজটে আলোর তীব্রতা কমিয়ে রাখুন
হেডলাইটের তীব্র আলোয় অনেক সময় উল্টো দিক থেকে আসা গাড়িচালকের চোখ ধাঁধিয়ে যায়। তা থেকেই দুর্ঘটনা ঘটে। বিপদ এড়াতে ভিড়ের মধ্যে বা যানজটে সব সময় আলোর তীব্রতা কমিয়ে রাখা জরুরি।
ড্যাশবোর্ডে পা রাখবেন না
দীর্ঘ সফরের সময় আরামের জন্য ড্যাশবোর্ডে পা তুলে বসার অভ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। হুট করে এয়ারব্যাগ খুলে গেলে পা ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগতে পারে।
কোলে শিশু নিয়ে বসা অনুচিত
শিশুকে কোলে নিয়ে বসলে দুর্ঘটনার সময় সুরক্ষাবলয় কাজ করে না। তা ছাড়া এয়ারব্যাগ হঠাৎ খুললে তার ধাক্কায় শিশুর শ্বাসরোধ বা আঘাতের ঝুঁকি থাকে। তাই শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট শিশু-আসন ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষত সফর লম্বা হলে সুরক্ষার দিকটি খুব জরুরি।
মাথার হেলান
আসনের মাথার হেলানটি কেবল আরামের জন্য নয়, সংঘর্ষের সময় ঘাড়ের আঘাত প্রতিরোধেও এটি অত্যন্ত কার্যকর। তা ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে কাচ ভাঙার জন্য গাড়িতে সব সময় একটি ছোট হাতুড়ি বা যন্ত্র রাখা ভাল।
চুল বাঁধার সরঞ্জাম বাছাই করুন ভেবেচিন্তে
গাড়ি চালানোর সময় মাথায় শক্ত প্লাস্টিক বা ধাতুর তৈরি খোঁপার কাঁটা, ক্লিপ ইত্যাদি ব্যবহার না করাই ভাল। কোনও কারণে হঠাৎ ধাক্কা লাগলে মাথায় ও ঘাড়ে আঘাত লাগার ঝুঁকি থাকে।
গাড়িতে ওঠার আগে নজর দিন
নির্জন স্থানে দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়িতে ওঠার আগে পিছনের চাকা ও বসার অংশ খেয়াল করুন। পিছনের দিকের আসন সামান্য নিচু হয়ে গিয়েছে মনে হলে বুঝতে হবে, ভিতরে কেউ থাকতে পারে। কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে অবিলম্বে সতর্ক হন।
অবস্থান নজরদারি
গাড়ির অবস্থান সর্বদা নজরদারিতে রাখার ব্যবস্থা রাখুন এবং ভৌগোলিক সীমানা নির্দিষ্ট করে দিন। গাড়ি অন্য কোনও অপরিচিত পথে গেলে যাতে বিশ্বস্ত কারও কাছে বার্তা পৌঁছে যায়, সেই ব্যবস্থা রাখা ভাল।
অচেনা যন্ত্রপাতির সন্ধান করুন
গাড়ির দরজার পকেট, পিছনের অতিরিক্ত জায়গা বা নীচের অংশ নিয়মিত পরীক্ষা করুন। কোনও সন্দেহজনক বা অচেনা ট্র্যাকিং যন্ত্র নজরে এলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিন।