মার্বেলের মন্দির। তার দেওয়াল, মেঝে জুড়ে শুধু ইঁদুর। কোনওটি গর্ত দিয়ে মুখ বার করছে, কেউ কেউ আবার থালায় দেওয়া লাড্ডু খেতে ব্যস্ত। রাজস্থানের বীকানেরের অদূরে রয়েছে এমনই এক মন্দির।
মন্দিরে ঘুরে বেড়ায় অসংখ্য ইঁদুর। ছবি:সংগৃহীত।
কেউ বলেন করণী মন্দির, কেউ বলেন কর্নী। এই মন্দিরের আরাধ্য কর্নীমাতা আর তাঁর হাজার হাজার ইঁদুর সন্তান। সংখ্যায় বাড়তে বাড়তে ইঁদুরের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
এই মন্দির আর করণীমাতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিংবদন্তি। করণীমাতার সৎপুত্র লক্ষ্মণ কপিল সরোবরে ডুবে মারা গিয়েছিলেন। মায়ের আকুল প্রার্থনায় একসময় যম সাড়া দেন, তবে শর্ত দেন, ইঁদুর রূপে সন্তানকে ফেরাবেন। সেই থেকে ইঁদুরদের করণীমাতার সন্তান বলে ধরে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বীকানেরের মহারাজা গঙ্গা সিংহ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। মার্বেলের কারুকাজখচিত মন্দিরে রয়েছে রুপোর দরজা। মন্দিরের অন্তঃপুরে করণী মূর্তিটি অধিষ্ঠিত। ৭৫ সেন্টিমিটার দীর্ঘ মূর্তির এক হাতে ত্রিশূল রয়েছে। তিনি মুকুট ও মালায় সজ্জিতা। করণীমাতার সন্তান ইঁদুরদের জন্য দুধ থেকে লাড্ডু— রকমারি খাবারেরও ব্যবস্থা থাকে। তার মধ্যে সাদা ইঁদুরদের আরও পবিত্র মানা হয়।
নৈবেদ্যে দেওয়া হয় দুধ। ছবি:সংগৃহীত।
ইঁদুরহত্যা এখানে মহাপাপ। এমনও নিয়ম শোনা যায়, কেউ ইদুঁর মারলে তাকে সোনার ইঁদুর গড়িয়ে দিতে হয়। ভক্তেরাও দেবী এবং ইঁদুরদের উদ্দেশে নৈবেদ্য দেন।
ভোর ৪টে থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে মন্দির। নবরাত্রিতে বড় আকারে মেলাও হয়।
কী ভাবে যাবেন?
করণীমাতার মন্দিরটি রয়েছে রাজস্থানের দেশকোনে। বীকানের থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে। মন্দির থেকে এক কিলোমিটার দূরে দেশনোক রেলস্টেশন। বীকানের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। ভারতের বৈচিত্রপূর্ণ সংস্কৃতির শরিক হতে হলে, ঘুরে আসতেই পারেন করণীমাতার মন্দির থেকে।