রেলসফরে প্রায়শই আসন বদলানোর প্রস্তাব আসে সহযাত্রীদের দিক থেকে। বিশেষত নীচের দিকের আসনগুলির উপর নজর থাকে অনেকেরই। সাধারণত ট্রেনে উঠে বয়স্ক যাত্রীরা অন্য যাত্রীদের কাছে অনুরোধ করেন আসনটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। তেমনই একটি ঘটনার কথা সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন এক যাত্রী। রেলে সফরকালে এমন এক অভিজ্ঞতার কথাই ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। একটি পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, এক তরুণ নিজের সাইড লোয়ার বার্থটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য টাকার দাবি করেন এক বয়স্ক দম্পতিকে। ভাইরাল হয়েছে সেই পোস্টটি। বিতর্ক তৈরি হয়েছে পোস্ট ঘিরে। যদিও এই পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
এই ঘটনাটি শেয়ার করেছেন পূজা নামের এক এক্স ব্যবহারকারী। ভাইরাল হওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচের উপরের বার্থে বসে পুরো ঘটনাটি দেখছিলেন পূজা। যাত্রাপথে, এক বয়স্ক দম্পতি পাশের নীচের বার্থে বসে থাকা এক যুবককে আসন বদল করার অনুরোধ করেন। সাধারণত, বয়স্ক মানুষ দেখলে যাত্রীদের অনেকেই নিজেদের আসন ছেড়ে দেন। কিন্তু এখানে ঘটনাটি তেমন ঘটেনি। বৃদ্ধ দম্পতির প্রস্তাবে তরুণ সরাসরি জানিয়ে দেন যে তিনি লোয়ার বার্থের আসনটি ২,১০০ টাকায় বুক করেছেন। যদি তাঁরা সত্যিই আসনটি নিতে চান তবে তাঁদের টিকিটের অর্ধেক দাম, অর্থাৎ ১,০৫০ টাকা দিতে হবে। তরুণের কথা শুনে হতবাক হয়ে যান দম্পতি, বলে জানিয়েছেন পূজা নামের ওই পোস্টদাতা। কথা না বাড়িয়ে চলে যাওয়াই শ্রেয় মনে করলেন তাঁরা। পূজা তাঁর পোস্টে কিছুটা ব্যাঙ্গাত্মক ভাবেই লিখেছেন, ‘‘আজ আমি বুঝলাম যে এসি কামরায় নীচের আসন শুধু একটা আসন নয়, বরং একটা বিলাসিতার জিনিস। এটা পাওয়া কঠিন, আর সেই সুবিধা ছেড়ে দেওয়া তো আরও কঠিন।’’
আরও পড়ুন:
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। নেটাগরিকদের একাংশ ওই তরুণের যুক্তিকে সমর্থন করে বলেন, বয়স্ক যাত্রীরা যদি নিচু আসন চান, তাহলে তাঁদেরও আগে থেকে সেই আসন বুক করা উচিত ছিল। অন্য যাত্রীর নামে সংরক্ষিত আসন পরে দাবি করা কোনও ভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয় বলেও মত তাঁদের। তবে এই ঘটনার সমালোচনাও করেছেন অনেকে। তাঁদের মতে, প্রতিটি বিষয়কে শুধু টাকা বা নিয়মের হিসেব দিয়ে দেখা যায় না। বিশেষ করে বয়স্ক যাত্রীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করে কিছুটা সহানুভূতি ও মানবিকতা দেখানো উচিত।