জঙ্গলের সবচেয়ে ক্ষিপ্র প্রাণী। তিরের বেগে ধাওয়া করে শিকার ধরায় জুড়ি মেলা ভার। সেই ভয়ঙ্কর শ্বাপদই কাঁপতে কাঁপতে গড়িয়ে পড়ল পাথুরে জমির ঢাল বেয়ে। জঙ্গল থেকে পালিয়ে আসা একটি চিতাবাঘের করুণ অবস্থার একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। অমিত শক্তিধর বন্যপ্রাণীটির দশা দেখে হতবাক হয়েছেন নেটাগরিকেরা। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, চিতাবাঘটি ঝোপঝাড় ও পাথরের মধ্যে মাটিতে বসে রয়েছে। দূর থেকে ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করেছেন এক ব্যক্তি। প্রথম কয়েক সেকেন্ড চিতাবাঘটি নিশ্চল থাকে। তার পরই প্রাণীটির শরীরে শুরু হয় ঝাঁকুনি। অস্বাভাবিক দ্রুততায় তার শরীর নড়তে শুরু করে। কিছু ক্ষণ পরেই এটি ভারসাম্য হারিয়ে ঝোপের মধ্যে পড়ে যায়। ঝোপের ভেতরে এর শরীর প্রচণ্ড ভাবে কাঁপতে থাকে। মাথাও হেঁট করে শরীর উঁচু করে দ্রুত নড়তে থাকে শ্বাপদটি। ভিডিয়োটি শেষ হওয়া পর্যন্ত চিতাবাঘটি ছটফট করতে থাকে।
এই ভিডিয়োটি ইনস্টাগ্রামে ‘সুশীলখাড়কা১’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়েছে। নেপালি ভাষায় লেখা পোস্টটিতে বলা হয়েছে যে, নেপালের আছাম জেলার রাওয়াতবাড়া, মেল্লেখ-৫ এলাকার একটি বাড়ির পাশের জমিতে চিতাবাঘটিকে পাওয়া গিয়েছে। পোস্টে দাবি করা হয়েছে, চিতাবাঘটি অসুস্থ। তার মধ্যে মৃগী রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করার আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবোলা প্রাণীটির যথাযথ চিকিৎসার জন্য বিভাগীয় বনকর্তা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা।
ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পর মন্তব্য বিভাগে নেটমাধ্যম ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, চিতাবাঘটির খিঁচুনি বা মৃগী রোগে আক্রান্ত। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন যে, এটিকে হয়তো কোনও বিষাক্ত সাপ কামড়েছিল। বেশ কয়েক জন ব্যবহারকারী বিষক্রিয়ার আশঙ্কাও করেছেন। আবার অন্যেরা এটিকে ‘ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাস’ ঘটিত একটি রোগ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও এই সমস্ত দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।