দরজা খুলতেই দেখা মিলল অতিকায় অতিথির। দরজা ফাঁক করে সটান বাড়ির ভিতর ঢোকার চেষ্টা করতেই বাধা দিলেন বাড়ির কর্তা। অনাহুত অতিথির অনুপ্রবেশ খালি হাতেই রুখে দিলেন তিনি। এ ভাবেই একটি বৃহদাকার অজগরকে একাই কব্জা করে ফেললেন মেরঠের এক বাসিন্দা। দরজা খুলতেই তিনি দেখতে পান একটি বিশাল অজগর ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। সঙ্গে সঙ্গে খপ করে সাপটির গলা টিপে ধরেন তিনি। সেই দুঃসাহসিক ঘটনারই একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, সাত থেকে আট ফুট লম্বা একটি মোটাসোটা অজগর একটি বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াতেই তড়িৎগতিতে সেটির গলা চেপে ধরেন এক তরুণ। সাপটি পর ক্ষণেই লেজ ও শরীর বাঁকিয়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে। তরুণ সেটির মুখ চেপে রাখেন, যাতে অজগরটি হাত ফস্কে পালাতে না পারে। সাপটিও ছাড়ার পাত্র নয়। দরজা দিয়ে সোজা বাড়ির ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করতেই বাধা পায়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের মেরঠ জেলার হাসনপুর কাদিম গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যখন একটি বিশাল অজগর মাঠ থেকে গ্রামের জনবহুল এলাকায় চলে আসে। রাস্তায় হঠাৎ এত বড় একটি সাপ দেখে গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই খবর দ্রুত গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। অনেকে অজগরটিকে দেখার জন্য দূরে দাঁড়িয়েছিলেন। আবার অনেকে সেটির ভিডিয়ো করার জন্য মোবাইল ফোন বার করে ফেলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অজগরটিকে প্রথমে গ্রামের রাস্তার মাঝখানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এটির আকার এতটাই বড় ছিল যে তা দেখে গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এত বড় একটি অজগর কী ভাবে জনবহুল এলাকায় পৌঁছোতে পারল, তা নিয়ে গ্রামবাসীদের কৌতূহলের অন্ত ছিল না। এটি কিছু ক্ষণ রাস্তা দিয়ে চলার পর একটি বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করে। সেই ভিডিয়োটিই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পরে বন দফতরকে খবর দেওয়া হয়। দ্রুত বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গ্রামবাসীদের সহায়তায় অজগরটিকে ঘিরে ফেলেন সাপ উদ্ধারকারী কর্মীরা। উদ্ধারের পর বন বিভাগের কর্মীরা অজগরটিকে হস্তিনাপুর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ছেড়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োটি একাধিক এক্স হ্যান্ডল থেকে ভাইরাল হয়েছে। ‘অনন্তনাগরিক’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করার পর তা বহু বার দেখা হয়েছে। সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীরা ভিডিয়োটি দেখার পর নানা ভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘‘এটা দেখে আমি বাক্রুদ্ধ।’’ আর এক জন লিখেছেন, ‘‘সত্যিকারের বাহুবলি।’’