উদ্ধার করার পর প্রবল ক্ষুধায় কাতর হয়ে কাঁদছিল ১৭ দিনের শিশু। দুধের ব্যবস্থা না থাকায় শিশুটিকে শান্ত করতে কোলে তুলে নিয়ে স্তন্যপান করালেন নেপালের শিশু ও প্রবীণ নাগরিক বিষয়ক মন্ত্রী সীতা বাদী। সন্তানের মতো যত্ন করে স্তন্যদুগ্ধ পান করালেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে ঘটনাটি গত ২৩ জুলাইয়ের। সেই ঘটনারই একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সম্প্রতি। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ শিরোনামে এসেছে। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
কাঠমান্ডুর একটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় সীতা ১৭ দিন বয়সি ওই শিশুকে স্তন্যপান করান। ডাক্তারি পরীক্ষার সময় শিশুটি কাঁদতে শুরু করে। সেখানে কোনও দুধের বন্দোবস্ত ছিল না। সীতা তাঁকে কোলে তুলে নিয়ে দু’বার স্তন্যপান করান। সেই মুহূর্তের ভিডিয়োটি ভাইরাল হয়েছে। ভিডিয়োটি নেটাগরিকদের মন জয় করে নিয়েছে। এক মন্ত্রীর এই মাতৃত্ব ও ভালবাসার নিদর্শন দেখে প্রশংসায় ভরিয়েছে নেটপাড়া।
কাঠমান্ডুর নকশাল এলাকার ‘বাল মন্দির’ নামক একটি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০টি শিশুকে উদ্ধার করে শিশুকল্যাণ মন্ত্রক। এদের মধ্যে ১২ জন ছেলে ও ৮ জন মেয়ে। শিশুগুলির বয়স ছিল ১৫ দিন থেকে ২ বছরের মধ্যে। বর্ষাকালে আশ্রয়কেন্দ্রটির অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে। যে ঘরে দুই বছরের কম বয়সি শিশুদের রাখা হয়েছিল, সেখানে নোংরা জল ঢুকে পড়েছিল বলেও অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় ছিল যে, শিশুদের প্রশাসনিক কার্যালয়ে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। উদ্ধারকারী দলে মন্ত্রীর সচিবালয়, কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটি এবং পুলিশ-সহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা হাজির ছিলেন। উদ্ধারকারী দলের কর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ২০টি শিশুকে একটি মাত্র মাদুরের উপর রাখা হয়েছিল। খাবার বলতে শুকনো ইনস্ট্যান্ট নুডলস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা ছিল।
উদ্ধার করে আনার পর তাদের পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, শিশুদের অনেকেরই চোখে সংক্রমণ, ত্বকের সমস্যা এবং মারাত্মক কাশির সমস্যা রয়েছে। মন্ত্রী সেখানে হাজির হয়ে শুধু তদারকিতেই থেমে থাকেননি। তাঁদের পরিষ্কার করতে ও স্নান করাতেও সাহায্য করেন। এরই মধ্যে ওই ১৭ দিনের শিশুটি তারস্বরে কান্না জুড়ে দেয়। তাকে কোলে নিয়ে দুধ খাওয়ানোর পর সীতা বলেন, “যখন আমি ওকে কোলে নিলাম, মনে হল ও আমারই সন্তান।’’ তাঁর সচিব জানান, শিশুটি অভুক্ত। সীতা তখন জানান এখন তিনিই তার মা
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়ার পর মন্ত্রীর শৈশবের দিকেও দৃষ্টি পড়েছে। ১৯৯৫ সালে নেপালের সুরখেত জেলায় জন্ম নেওয়া সীতা দারিদ্র ও সামাজিক বৈষম্যের মধ্যে বড় হয়েছেন। ভেরি নদীর তীরে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পড়াশোনার জন্য ১২ বছর বয়সে তিনি কাঠমান্ডু চলে আসেন। একটি শিশু আশ্রয়কেন্দ্রে তিনি শৈশব কাটিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে তিনি নেপালের নারী, শিশু ও প্রবীণ নাগরিক বিষয়ক মন্ত্রী হন।