কালান্তক সাপকে ধরার পর তার সঙ্গে রিল ভিডিয়ো তৈরি। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই কাল হল সাপ উদ্ধারকারী তরুণের। গত শুক্রবার বাড়িতে বসেই গোখরোর ছোবলে প্রাণ হারালেন ২৮ বছরের তরুণ। মর্মান্তিক ঘটনাটি পুরীর কান্থাপুর গ্রামের। শয়ে শয়ে সাপ উদ্ধার করার পরও শুধুমাত্র সামান্য গাফিলতির জন্য প্রাণ হারাতে হল তপন কুমার প্রধান নামের তরুণকে। সেই ঘটনারই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছ সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, বাড়ির উঠোনের সামনে সিঁড়িতে বসেছিলেন তপন। সেখানেই একটি বিষধর গোখরো ছাড়া ছিল। সাপটির সঙ্গে ভিডিয়ো ও ছবি তুলছিলেন তিনি। দুপুর দু’টো নাগাদ সাপটি প্রথমে তাঁর ডান হাতের আঙুলে দংশন করে। তার পর কনুই ও হাতের উপরের অংশে পুনরায় ছোবল মারে বিষধর সরীসৃপটি। কামড় খাওয়ার পরও তপন বিচলিত না হয়ে সাপটিকে একটি কৌটোর মধ্যে পুরে রাখেন। তরুণকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে তাঁকে একটি অ্যান্টি ভেনম ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, চিকিৎসকেরা তাঁকে ১০ মিনিট পর আরেকটি ইঞ্জেকশন নিতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি দ্বিতীয় ইঞ্জেকশনটি না নিয়েই হাসপাতাল থেকে চলে যান। বাড়ি ফিরে আসেন তপন।
আরও পড়ুন:
আর তার পরই বিষয়টি অন্যদিকে মোড় নেয়। বিকেলের দিকে সাপ উদ্ধারকারী যুবকের অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যেরা তাঁকে দ্রুত পুরী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু, হাসপাতালে পৌঁছোনোর পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। তপনের মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োটি ‘মানসমুদুলি’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা হয়েছে। ভি়ডিয়ো দেখার পর তরুণের পরিণতি দেখে আঁতকে উঠেছেন নেটাগরিকেরা। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘বেশি কেরামতির ফল। সাপের সঙ্গে খেলা করা উচিত নয়। না হলে ফল ভুগতেই হবে।’’