প্রশিক্ষণের মাঝেই বিমান থেকে লাফ দিয়ে নিজেকে শেষ করলেন প্রশিক্ষক। চোখের জল মুছতে মুছতে একাই বিমান অবতরণ করাতে হল তরুণী শিক্ষার্থীকে। শনিবার আর্জেন্টিনায় ভয়ঙ্কর এই ঘটনাটি ঘটেছে। দাবি, মধ্য আর্জেন্টিনায় প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রশিক্ষণ বিমান থেকে লাফ দেন ওই বিমানের ‘ফ্লাইট ইনস্ট্রাক্টর (প্রশিক্ষক)’। মৃত্যু হয় তাঁর। এর ফলে ওই প্রশিক্ষক যাঁকে বিমান ওড়ানো শেখাচ্ছিলেন সেই তরুণীকে একাই কোনও রকমে অবতরণ করাতে হয় বিমানটিকে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার কর্ডোবা প্রদেশের তোলেদো এলাকার কাছে ঘটনাটি ঘটে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ৪২ বছর বয়সি লিয়ান্দ্রো আন্দ্রেস বের্তাজ়ো নামক ওই বিমান প্রশিক্ষকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
‘সিএনএন’-এর সহযোগী সংবাদমাধ্যম ‘টিএন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ বছর বয়সি তরুণী শিক্ষার্থী রোজ়ারিয়োকে ‘সেসনা ১৫০’ বিমানে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন বের্তাজ়ো। বিমান ওড়ানো শেখাচ্ছিলেন। তখনই ঘটনাটি ঘটে। সাবধানে বিমান অবতরণ করাতে হয় রোজ়ারিয়োকে। পরে তদন্তকারীদের তিনি জানান, বের্তাজ়ো তাঁর হেডসেট খুলে ফেলেন এবং সিটবেল্ট খোলার পর তাঁকে বলেন, ‘‘তুমি জানো তোমায় কী করতে হবে, চালিয়ে যাও।’’ এর পর বিমানের দরজা খুলে চলন্ত বিমান থেকে লাফ দেন। তবে সেই পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রাখেন রোজ়ারিয়ো। কাঁদতে কাঁদতে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। নিরাপদে বিমানটি অবতরণ করাতেও সক্ষম হন।
আরও পড়ুন:
বিমান প্রশিক্ষণ স্কুলের ডিরেক্টর এদুয়ার্দো আলভারেজ় জানিয়েছেন, নামার পর রোজ়ারিয়ো পুরোপুরি হতভম্ব অবস্থায় ছিলেন। তবে তাঁর বা বিমানটির কোনও ক্ষতি হয়নি। এদুয়ার্দোর দাবি, বের্তাজ়ো এক জন অভিজ্ঞ পাইলট ছিলেন। তাই তিনি যে এমন কোনও পদক্ষেপ করতে পারেন, তা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। এদুয়ার্দো এ-ও জানিয়েছেন, ওই দিনই বের্তাজ়ো অন্য এক শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তখন কোনও সমস্যা বা উদ্বেগের বিষয় নজরে আসেনি। তাঁর কথায়, ‘‘বিমানে পাশে অন্য এক জন থাকা সত্ত্বেও বের্তাজ়ো এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন ভেবে আরও অবাক লাগছে। বিষয়টি নিয়ে ভাবা বা বোঝা অসম্ভব। তবে মানুষের মন সত্যিই বড় জটিল।’’ তবে বিমান প্রশিক্ষণ স্কুলের ডিরেক্টর এ-ও উল্লেখ করেছেন, আকাশে ওড়ার সময় ছোট বিমানের দরজা খোলা অত্যন্ত কঠিন কাজ। কারণ, বাতাসের প্রবল চাপ বাধার সৃষ্টি করে। ফলে কী ভাবে বের্তাজ়ো দরজাটি খুললেন তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বের্তাজ়ো অত্যন্ত অভিজ্ঞ এক জন পাইলট ছিলেন। আর্জেন্টিনায় ফিরে আসার আগে তিনি প্রতিবেশী দেশ চিলিতেও বিমান প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ করেছেন। সরকার ইতিমধ্যেই বের্তাজ়োর মৃত্যুর পিছনের কারণ খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।