Advertisement
E-Paper

‘৪৬ বছর আগে জয়েন্ট এন্ট্রান্সে বাবার ব্যর্থতাই আমার জীবনের সেরা ঘটনা’! অদ্ভুত দাবি আইআইটি স্নাতকের

বর্তমানে নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা এক আইআইটি স্নাতক এবং পেশায় সফ্‌টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন তাঁর বাবা ১৯৮০ সালের আইআইটি জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগ্‌জ়ামিনেশন (জেইই)-এ ব্যর্থ হয়েছিলেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ অগস্ট ২০২৬ ০৮:০০
IIT graduate says father’s JEE failure was best thing in his life

—প্রতীকী ছবি।

জে‌ই‌ই-তে ব্যর্থ হয়েছিলেন বাবা। আর সেটিই তাঁর জীবনের সেরা ঘটনা! সমজামাধ্যমে তেমনটাই দাবি করলেন আইআইটি স্নাতক এক তরুণ। বর্তমানে নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা এক আইআইটি স্নাতক এবং পেশায় সফ্‌টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন তাঁর বাবা ১৯৮০ সালের আইআইটি জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগ্‌জ়ামিনেশন (জেইই)-এ ব্যর্থ হয়েছিলেন। আর সেই ব্যর্থতাকেই নিজের জীবনের সেরা ঘটনা হিসাবে বর্ণনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সমাজমাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে আকাশ সম্পূর্ণানন্দ পাণ্ডে নামের ওই তরুণ বিস্তারিত ভাবে এ-ও জানিয়েছেন, কী ভাবে তাঁর বাবা মাত্র ১০ টাকা পকেটে ভরে ২০০ কিলোমিটার পথ অন্য গাড়িতে লিফ্‌ট নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন।

পাণ্ডে জানান, তাঁর বাবা জেইই সম্পর্কে জানার মাত্র ছ’মাসের মধ্যেই বিশেষ কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই সেই পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘আমার জীবনের সেরা ঘটনাটি ছিল আমার বাবার আইআইটি জেইই-তে ব্যর্থ হওয়া। ১৯৮০ সালের গ্রীষ্মে, তিনি পকেটে মাত্র ১০ টাকা ভরে ২০০ কিলোমিটার পথ লিফ্‌ট নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। জেইই কী, তা তিনি মাত্র ৬ মাস আগেই জেনেছিলেন এবং কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই পরীক্ষায় বসেছিলেন। কারণ তাঁর গ্রামে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে মেধাবী।’’

পাণ্ডে জানিয়েছেন, গ্রামের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বাবা পরীক্ষায় ব্যর্থ হন। শোচনীয় ফল করেন। একটি প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে এ নিয়ে তাঁর মনে কখনওই কোনও দুঃখ বা ক্ষোভ ছিল না। বরং ছেলেকে ছোটবেলা থেকেই তিনি আইআইটি পড়ুয়াদের গল্প শোনাতেন। আইআইটি স্নাতকের কথায়, ‘‘বাবা বাজে ভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন। বাবা বলেন, একটা প্রশ্নেরও উত্তর তিনি দিতে পারেননি। কিন্তু তাঁর মনে এ নিয়ে কোনও তিক্ততা ছিল না। আমাকে তাই ছোটবেলা থেকেই তিনি আইআইটির পড়ুয়াদের গল্প শোনাতেন। উদ্বুদ্ধ করতেন।’’

পাণ্ডে দাবি করেন, তাঁর বাবার সেই অভিজ্ঞতা তাঁর নিজের পরীক্ষার প্রস্তুতির উপর থেকে সব ধরনের চাপ সরিয়ে দিয়েছিল। তিনি লেখেন, ‘‘বাবার জেইই-তে ব্যর্থতা আমাকে এক অদ্ভুত উপহারও দিয়েছিল। আমি পরীক্ষা নিয়ে কখনও কোনও চাপ নিতে শিখিনি। ব্যর্থ হলে বাবার মতোই হতাম, তাতেও জীবন ভালই চলত। আর সফল হলে পুরো বংশের মধ্যে প্রথম হতাম। কোনও ঝুঁকি বা ক্ষতি ছিল না, কিন্তু অর্জনের সম্ভাবনা ছিল বিশাল। প্রত্যাশার বোঝা ছাড়াই লক্ষ্য অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল আমার।’’

পাণ্ডে আরও জানান, তাঁর বাবা মাঝেমধ্যেই বলতেন, যে পরীক্ষায় তিনি নিজে ব্যর্থ হয়েছেন, সেটির জন্য তিনি ছেলেকে কোনও চাপ দিতে পারেন না। শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালে তাঁর প্রথম প্রচেষ্টাতেই জেইই উত্তীর্ণ হন পাণ্ডে। তাঁর বাবার কারণেই তিনি এই ফল করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন তরুণ। আইআইটি (বিএইচইউ) বারাণসীর প্রাক্তন ছাত্র এবং নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী পাণ্ডে বর্তমানে নিউ ইয়র্কে সফ্‌টঅয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

IIT Career

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy