মারণরোগ ধরা পড়েছিল বৃদ্ধার। চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচার করা ছাড়া উপায় নেই। তাই শুনে বৃদ্ধা সিদ্ধান্ত নেন পরিচিত গণ্ডি ছাড়িয়ে দূরে কোথাও পাড়ি দেবেন। সেইমতো অ্যান্টার্কটিকায় চলে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে বন্যপ্রাণের এক আশ্চর্য সুন্দর ঘটনা দেখে রোগ প্রায় গায়েব হয়ে যায় তাঁর। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটিই ঘটেছে চিনের বাসিন্দা এক বৃদ্ধার জীবনে।
আরও পড়ুন:
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, বৃদ্ধার নাম ওয়াং ইং। বয়স ৬৭। নিজের মনের আনন্দে পশুপাখির ছবি তোলেন তিনি। বিশেষ করে পাখির। ১২০০-এরও বেশি প্রজাতির পাখির ছবি তুলেছেন তিনি। এমনটাই জানা গিয়েছে। ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং-এর একটি স্কুলে কর্মরত ছিলেন তিনি। হঠাৎই থাইরয়েড ক্যান্সার ধরা পড়ে তাঁর। অবিলম্বে অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।
আরও পড়ুন:
কিন্তু বৃদ্ধা মনস্থির করেছিলেন এই ভাবে জীবন শেষ হতে দেবেন না তিনি। অস্ত্রোপচারেও নারাজ ছিলেন তিনি। পেঙ্গুইনের ছবি তোলার জন্য অ্যান্টার্কটিকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওয়াং। জীবনের সমস্ত সঞ্চয় ব্যয় করে বরফের দেশে পাড়ি দেন তিনি। ওয়াং জানিয়েছেন, মা পেঙ্গুইন ছানাকে খাবার খাওয়াচ্ছে, এমন একটি ছবি তোলার জন্য আকুল ছিলেন তিনি। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচে, ঝোড়ো বাতাস, ভারী তুষারপাত— কোনও প্রতিকূলতাই রুখে দিতে পারেনি তাঁকে।
আরও পড়ুন:
অবশেষে স্বপ্ন সত্যি হয় তাঁর। মাছ ধরা সেরে মা পেঙ্গুইন তার ছানাকে খাওয়াচ্ছে, এমন একটি অভূতপূর্ব দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে সক্ষম হন তিনি। ওয়াং জানান, পেঙ্গুইনের সঙ্গে হাঁটাহাঁটি করেও বেড়িয়েছেন তিনি। তাদের বাসা খুঁজতেও দেখেছেন।
অবাক করা ঘটনা ঘটে এর পরে। তুষারে ঢাকা দেশে সফর সেরে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যান ওয়াং। জানা যায়, তাঁর শরীরে থাকা ক্যান্সারের জীবাণু বহনকারী টিউমারটি আকারে ছোট হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসক জানান, আপাতত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা নজরদারিতে রাখা হবে। যদিও ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ওয়াংয়ের কথায়, এই অভিজ্ঞতা তাঁর মধ্যে নতুন করে আশা জাগিয়েছে। বেঁচে থাকার প্রেরণা খুঁজে পেয়েছেন তিনি। এখন তিনি পাখির ছবি তোলায় আরও বেশি করে ব্যস্ত রয়েছেন। ছবি তোলার জন্য ৩০টিরও বেশি দেশে গিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। পুরো পেনশনের টাকাই ছবি তোলার সাজসরঞ্জাম কেনার কাজে ব্যয় করেছেন বলেও জানিয়েছেন।