দুই বন্ধুর সঙ্গে পাহাড়ে হাইক করতে গিয়েছিলেন এক তরুণ। কিন্তু হাইকের মাঝে ঘটে বিপদ। হাইকিং পোল বিঁধে যায় তাঁর শরীরে। কিন্তু জরুরি বিভাগে ফোন করে হেলিকপ্টারে করে নামার খরচও অনেক। তাই সেই অবস্থাতেই হেঁটে নামার সিদ্ধান্ত নিলেন তরুণ। অবাক করা এই ঘটনাটি সমাজমাধ্যমের পাতায় ভাইরাল হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, তরুণের নাম ডেভিড সিফালদি। তাঁর বয়স ৩২ বছর। ২০ জুলাই তিনি তাঁর দুই বন্ধুর সঙ্গে আমেরিকার মন্টানা পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ট্রেক করতে যান। মাঝপথে তিনি পড়ে যান। সেই সময় তাঁর বাঁ হাতের নীচ থেকে ট্রেকিং পোলটি ঢুকে গিয়ে কোমর পর্যন্ত চলে যায়। শরীরের ভিতর ট্রেকিং পোলের উপস্থিতি অনুভব করতে পারেন ডেভিড। কিন্তু তিনি ভয় পাননি।
আরও পড়ুন:
ডেভিড পেশায় এক জন নার্স। হয়তো সেই কারণেই তিনি সাহস নিয়ে সেই অবস্থাতে পাহাড়ের চূড়া থেকে নামার সাহস করতে পারেন। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, ডেভিড বুঝতে পারেন যে ট্রেকিং পোলটি তাঁর শরীরে ভিতরে বিশেষ গভীর কোনও ক্ষত সৃষ্টি করেনি। অর্থাৎ, শরীরের ভিতরের কোনও অঙ্গে যে সেটি বিঁধে যায়নি তা বুঝতে পারেন ডেভিড। তাই আতঙ্কে ধরা দেননি ডেভিড এবং তাঁর বন্ধুরা।
আরও পড়ুন:
উল্টে এক অভিনব কায়দার সাহায্য নেন তাঁরা। স্যাটেলাইটের সাহায্যে ডেভিড তাঁর নার্সিংয়ের প্রশিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পর তাঁর বলা কথা অনুযায়ী কাজ করে নিজের প্রাথমিক চিকিৎসা করেন। টাকা বাঁচানোর জন্য উদ্ধারকারী দলকে খবর দেন না তাঁরা। উল্টে ১৬ কিমি পাথুরে পথ পায়ে হেঁটে নামার সিদ্ধান্ত নেন ডেভিড এবং তাঁর বন্ধুরা। ডেভিডকে আগে রেখে বন্ধুরা তাঁর পিছনে পিছনে হাঁটছিলেন। এতে ডেভিডের ক্ষত থেকে অতিরিক্ত রক্তপাত হচ্ছে কি না তা খেয়াল রাখতে সুবিধা হচ্ছিল তাঁদের।
আরও পড়ুন:
প্রায় ছয় ঘণ্টা যাত্রার পর তাঁরা সমতলে এসে পৌঁছোন। এর পর ডেভিডকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক জানান, পোলটি আর একটু এ দিক-ও দিক হলেও ডেভিডের প্রাণ নিয়ে টানাটানি পড়ে যেত। বর্তমানে ডেভিড সুস্থ আছেন।
বন্ধুত্ব এবং সাহসের এই অভাবনীয় গল্প ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়। ঘটনাটি বিপুল পরিমাণে ভাইরাল হয়েছে। নেটাগরিকেরা ডেভিডের গল্প শুনে তাজ্জব বনে গিয়েছেন। ডেভিডকে বাহবা জানিয়েছেন তাঁরা।