বিতর্কের জন্ম দিল চেন্নাই মেট্রোর একটি কামরার ভিতরে থাকা ফিক্সড ডিপোজ়িট বা স্থায়ী আমানতের একটি বিজ্ঞাপন। ‘গার্লফ্রেন্ড’ বা প্রেমিকার সঙ্গে সুদের হারের তুলনা করা ওই বিজ্ঞাপন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী ডিএমকে শিবির। সেই বিজ্ঞাপনের ছবিটি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরালও হয়েছে ছবিটি। যদিও সেই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমবায় ঋণদাতা সংস্থা ‘তিরুভল্লুভার ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন এমপ্লয়িজ় কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেড’ বা ‘থিকোস’ তাদের স্থায়ী আমানত সংক্রান্ত প্রকল্পের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপনটি দিয়েছিল। এতে সংস্থার দেওয়া সুদের হারের সঙ্গে এক জন প্রেমিকার কাছ থেকে পাওয়া তথাকথিত সুদের হারের তুলনা করা হয়েছিল। বিজ্ঞাপনটিতে লেখা, ‘‘এক জন প্রেমিকা হয়তো শূন্য শতাংশ সুদ দিতে পারেন। কিন্তু আমরা দেব ১৪.৪ শতাংশ।’’ এই কথাটির মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া মুনাফার হারকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
চেন্নাই মেট্রোর একটি কামরার ভিতরে লাগানো সেই বিজ্ঞাপন নজরে আসে ডিএমকে সাংসদ তামিলাচি থাঙ্গাপান্ডিয়ানের। বিজ্ঞাপনটির একটি ছবি সমাজমাধ্যম এক্সে শেয়ার করে সাংসদ প্রশ্ন করেছেন, ‘‘গণপরিবহণে কী ভাবে এ ধরনের বার্তা থাকা বিজ্ঞাপনী প্রচার চালানোর অনুমতি দেওয়া হল?’’ নারীদের প্রসঙ্গ টেনে আনার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে থাঙ্গাপান্ডিয়ান জানিয়েছেন, জনবহুল এলাকা বা গণপরিবহণে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নারীদের মর্যাদাহানি করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন:
পোস্টে থাঙ্গাপান্ডিয়ান লিখেছেন, ‘‘চেন্নাই মেট্রো রেলের ভিতরে এমন একটি বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যা নারীদের অবমাননা করে এবং তাদের কেবল একটি ‘বস্তু’ হিসেবে উপস্থাপন করে। জনবহুল জায়গায় বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে নারীদের মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’’ এই বিজ্ঞাপনটি প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে চেন্নাই মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের কাছেও কৈফিয়ত তলব করেছেন ডিএমকে সাংসদ। অবিলম্বে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে ফেলার দাবিও জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
থাঙ্গাপান্ডিয়ান বলেন, ‘‘চেন্নাই মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ কী ভাবে এমন একটি বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আমি অনুরোধ করছি যেন এই বিজ্ঞাপনটি অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার রোধে যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়।’’ ডিএমকে সাংসদের যুক্তি, জনসমাগমপূর্ণ এবং বহুল ব্যবহৃত স্থানে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনগুলি দর্শকদের প্রভাবিত করতে পারে। তাই এ ধরনের বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু বা বার্তা খতিয়ে দেখা কর্তৃপক্ষের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, ডিএমকে সাংসদ ওই বিজ্ঞাপনের ছবি পোস্ট করা নিয়ে হইচই পড়েছে সমাজমাধ্যমেও। তৈরি হয়েছে বিতর্ক। নেটাগরিকদের একাংশ নারীদের অবমাননার কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। যদিও মেট্রো বা থিকোসের তরফে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।