৭,০২৭ মিটার শৃঙ্গে ওঠার ইচ্ছে ছিল বহু দিনের। সেই স্বপ্ন পূরণও করেছিলেন তরুণী চিকিৎসক ও পর্বতারোহী। কারাকোরামের স্প্যান্টিক পর্বতে সফল ভাবে আরোহণের পর প্রায় ৬,৪০০ মিটার উচ্চতায় নামার সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন পাকিস্তানি তরুণী আসমা মুশতাক। মারা যাওয়ার আগে তাঁর শেষ ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে আশমা তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছেন। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, সফল ভাবে ৭,০২৭ মিটার উঁচু চূড়ায় পৌঁছেছিলেন ৩৪ বছর বয়সি মুশতাক। উপরে ওঠার সময় সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন চিকিৎসক। চূড়ায় পৌঁছে একটি ভিডিয়োয় কথা বলতে দেখা যায় মুশতাককে। চূড়ার আরোহণ করতে পেরে প্রচণ্ড খুশি দেখাচ্ছিল তাঁকে। মর্মান্তিক ঘটনাটি পর পাকিস্তানের আলপাইন ক্লাব জানিয়েছে, নামার সময় প্রায় ৬,৪০০ মিটার বা প্রায় ২১,০০০ ফুট উচ্চতায় মুশতাকের গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। লাহৌরে জন্মানো মুশতাক ইংল্যান্ডের চিকিৎসক ছিলেন। প্রসূতিবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করতেন তিনি। পেশাগত জীবনের বাইরে, দুঃসাহসিক ভ্রমণ, পর্বতারোহণ এবং নিজের ভ্রমণবৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তানের পর্বতারোহীমহলে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন এই চিকিৎসক। তাঁর শেষ ভিডিয়োটি এক্স হ্যান্ডলের ‘কোয়াইসরানিহাসনেন’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে। মুশতাকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে পর্বতারোহী মহলে।
তাঁর সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলিতে তিনি নিয়মিত পর্বতারোহণ অভিযানের ছবি, ভিডিয়ো তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেন। সে দেশের পর্বতারোহণ সংস্থার মহাসচিব আয়াজ আহমেদ শিগরি জানান, ওই অভিযানে স্প্যান্টিক পর্বতের চূড়ায় পৌঁছোনো পাঁচ জন পাকিস্তানি নারীর মধ্যে মুশতাকও ছিলেন। এই অভিযানটি ছিল যথেষ্ঠ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। ৭,০২৭ মিটার উঁচু এই শৃঙ্গটি, গোল্ডেন পিক নামেও পরিচিত। গিলগিট-বালতিস্তানের নাগর জেলায় অবস্থিত শৃঙ্গটিকে পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান পর্বতারোহণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।