টাটানগর থেকে সম্বলপুর যাওয়ার জন্য ইস্পাত এক্সপ্রেসে স্লিপার-ক্লাসের দু’টি টিকিট কেটেছিলেন সঞ্জয় কুমার। ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে টাটানগর থেকে ছেড়ে বিকেল ৩টে ৫০ মিনিটে সম্বলপুর পৌঁছোনোর কথা ছিল ট্রেনটির। কিন্তু, দেরিতে ছাড়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের ৫২৮ মিনিট বা ৮ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট পরে ট্রেনটি সম্বলপুরে পৌঁছোয়। ট্রেন এত দেরি করায় শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়ে উপভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হন ওই যাত্রী। সাড়ে চার লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণও দাবি করেন সঞ্জয়। অভিযোগের সমর্থনে টিকিট এবং রেলকে পাঠানো একটি আইনি নোটিস জমা দিয়েছিলেন তিনি। তবে, রেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে। তা ছাড়া, বিষয়টি রেলওয়ে ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় পড়ে বলে উল্লেখ করে কমিশনের এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলে রেল।
রেলের তরফে জানানো হয়, সঞ্জয় নোটিস দেওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম মানেননি। তাদের দাবি, ট্রেন দেরি করার কারণে আর্থিক ক্ষতি সংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে কোনও জোরালো প্রমাণও দিতে পারেননি ওই যাত্রী। উপভোক্তা কমিশনের সভাপতি সুনীলকুমার সিংহ এবং সদস্য প্রদীপকুমার মিশ্র এবং সঞ্জু শাহীর বেঞ্চ প্রথমে কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে তোলা রেলের আপত্তিটি বিবেচনা করে। ট্রেনের দেরির জন্য দাবি করা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করে বেঞ্চ জানায়, উপভোক্তা বিষয়ক কমিশন সঞ্জয় কুমারের অভিযোগটি শুনতে পারে।
কমিশন উল্লেখ করে, “ট্রেনের ওই দেরি যে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল সে কথা রেল কর্তৃপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই আমরা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীর দাবিতে যথেষ্ট সারবত্তা খুঁজে পাই। এই মামলাটির বিচার করার এক্তিয়ার এই কমিশনের রয়েছে।” এর পর কমিশন যাত্রীর অভিযোগ অনুসারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে। এ ব্যাপারে কমিশন তাঁর টিকিট এবং অন্যান্য নথির উপর নির্ভর করেছিল। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, “অভিযোগকারী জোরালো এবং বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, ট্রেন দেরিতে চালানোর কারণে তিনি শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। পরিষেবায় গাফিলতির জন্য অভিযোগকারী প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী।”
এর আগে একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, যাত্রীদের সময় মূল্যবান এবং রেলকে অবশ্যই বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং প্রমাণ দিতে হবে যে কখন সেই দেরি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সঞ্জয়ের মামলায় এই পর্যবেক্ষণেরও গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন। যাত্রীর অভিযোগ আংশিক মঞ্জুর করে হয়রানির ক্ষতিপূরণ বাবদ রেলকে ৩০,০০০ টাকা এবং মামলার খরচ বাবদ ৫,০০০ টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে উপভোক্তা কমিশন। নির্দেশ অনুসারে নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করা না হলে সেই টাকার উপর ১২ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হবে বলেও জানায় কমিশন।