ভারতমুখী জাহাজে টর্পেডো হানা হওয়ার মাত্র আধ ঘণ্টা আগেই বাড়িতে ভিডিয়ো কল করেছিলেন মৃত নাবিক সুরজ যাদব। যে বাণিজ্যিক জাহাজটিতে কর্মরত ছিলেন সেই জাহাজের জীবনযাত্রা কেমন তা পরিবারকে দেখানোর জন্য উত্তেজিত ছিলেন সুরজ। সেই উৎসাহ নিয়ে বাড়িতে ফোন করেন তিনি। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে সব শেষ। ওমানের পূর্ব উপকূলে ‘এমভি কোপ দেও’ নামের বাণিজ্যিক জাহাজটিতে আছড়ে পড়ে টর্পেডো। সেই হামলার একটি ভি়ডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
‘ফরওয়ার্ড সি মেনস্ ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার’ এক্স হ্যান্ডল থেকে প্রকাশিত হয়েছে টর্পেডো হানার দৃশ্যটি। এই ঘটনা ঘটার আগে উৎফুল্ল মন নিয়ে বাড়িতে ভিডিয়ো কল করেছিলেন হতভাগ্য সুরজ। জাহাজে তিনি কোথায় কাজ করতেন ও ঘুমোতেন এবং তাঁকে কী খাবার পরিবেশন করা হত সমস্ত খুঁটিনাটি দেখিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যদের। সেই তাঁর শেষ বার্তালাপ। উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ায় থাকা সুরজের পরিবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুর খবর পায়।
মর্মান্তিক এই ঘটনার পর সুরজের কাকা অবধেশ যাদব সংবাদমাধ্যমে জানান, সুরজ ভিডিয়ো কলে বাড়ির সবাইকে জাহাজটি দেখান। সকলেই সেই ভিডিয়ো দেখে রোমাঞ্চিত হয়েছিল। যাদব পরিবারের, এমনকি পুরো গ্রামের মধ্যে সুরজই প্রথম ব্যক্তি যিনি বাণিজ্যিক জাহাজে ভ্রমণ করেছিলেন। দেওরিয়ায় সুরজের প্রতিবেশীরাও তাঁর বাড়িতে জড়ো হয়েছিলেন। গ্রামের ছেলে যখন জাহাজের চারপাশটা ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিলেন তখন সেই দৃশ্যের সাক্ষী হন পাড়া-পড়শিরাও।
সুরজের বাবা ওম প্রকাশ যাদব গত তিন মাস ধরে কুয়েতে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন। সুরজ তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। তাঁর ১২ ও ৯ বছর বয়সি দুই ছোট ভাই রয়েছে। মায়ের সঙ্গে তারা কর্মজিৎপুর গ্রামে থাকে। জাহাজের ইঞ্জিনঘর ও যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করা এবং নির্দেশ অনুযায়ী জাহাজের ইঞ্জিনিয়ারদের সহায়তা করাই ছিল সুরজের দায়িত্ব। ওই দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাহাজে থাকা ২০ জন ক্রু ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে থেকে ১৯ জনকে উদ্ধার করা গিয়েছে।