পথ ভুল করে মাঝ-আকাশে তালগোল পাকিয়ে ধেয়ে আসছে রকেট। সেটিকে ক্ষেপণাস্ত্র বলে ভুল করেছিলেন আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা। সম্প্রতি তাইওয়ান তাদের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি রকেটের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে। ওড়ার সময় পথ ভুল করে সেটি। কিছু ক্ষণের মধ্যেই আত্মঘাতী ব্যবস্থার (সেল্ফ ডেস্ট্রাক্ট সিস্টেম) মাধ্যমে রকেটটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
গত বুধবার, ১৯ অগস্ট, তাইওয়ানের স্থানীয় সময় সকাল ৬টা নাগাদ পিংটুং কাউন্টির জিউপেং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এই কেন্দ্রটি পরিচালনা করে সে দেশের সরকার-সমর্থিত ন্যাশনাল চুং-শান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এনসিএসআইএসটি)। সেটি তাইওয়ানের শীর্ষ অস্ত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। তবে ওই ঘটনায় কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আছড়ে পড়া রকেটের ভিডিয়োটি ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। ‘ক্ল্যাশরিপোর্ট’ নামের এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করা হয়েছে সেই ভিডিয়ো। সেখানে আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের চিৎকারও শোনা যাচ্ছে। ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
এনসিএসআইএসটি-র মতে, রকেটটি উৎক্ষেপণের প্রাথমিক পর্যায়ে তার নির্ধারিত গতিপথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। এর পরেই তারা সেটিকে ধ্বংস করেন। এই ব্যবস্থাটি এমন ভাবে ডিজ়াইন করা হয়েছে যাতে বিপথগামী রকেটকে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে উড়তে না দিয়ে, এর ধ্বংসাবশেষকে একটি নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায়।
আরও পড়ুন:
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বস্তুটি কিছু ক্ষণের জন্য উপরে ওঠার পর হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে সমুদ্র থেকে দূরে সরে গিয়ে নিকটবর্তী পাহাড়ের দিকে চলে যায়। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, রকেটটি জনবসতির দিকে ধেয়ে আসায় বাসিন্দারা আতঙ্কে চিৎকার করছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি প্রত্যন্ত এবং জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে ধ্বংস হয় এবং পাহাড়ের ঢালে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বিপর্যয়ের মুখে স্থানীয় গ্রামবাসীরা ভেবেছিলেন, চিন বুঝি আক্রমণ করেছে! রকেটটি সমুদ্রের দিকে না গিয়ে পাহাড়ের দিকে ছুটে যেতে শুরু করলে আতঙ্কিত মানুষ চিৎকার করে বলতে থাকেন, “কিছু একটা গন্ডগোল হয়েছে। সর্বনাশ, গ্রামটা বুঝি শেষ হয়ে গেল!” অবশেষে রকেটটিকে মাঝ-আকাশেই ধ্বংস করা হয়। এর ধ্বংসাবশেষ পাহাড়ের এক জনশূন্য এলাকায় গিয়ে পড়ে এবং এতে কেউ হতাহত হননি। জানা গিয়েছে, চিনা ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির মুখে সব সময় থাকা এই দ্বীপের বাসিন্দারা কয়েক মুহূর্তের জন্য সত্যিই বিশ্বাস করে ফেলেছিলেন যে যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে।