বিয়ে করবেন ঠিক করছিলেন। ছুটির আবেদন করা হয়ে গিয়েছিল। কার্ডও ছাপানো হয়ে গিয়েছিল। এক জন লিঙ্গ পরিবর্তন করাচ্ছেন বলেও খবর শোনা যাচ্ছিল! কিন্তু ভেঙে গেল মহারাষ্ট্রের পুণের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুলিশ বিভাগের সেই দুই মহিলা কনস্টেবলের বিয়ে। ছকভাঙা সেই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গিয়েছিল। ৩০ অগস্ট বিয়ের আসর বসত আলান্দিতে। ঠিক ছিল বৈদিক রীতি মেনে বিয়ে করবেন তাঁরা। কিন্তু এখন খবর, বাতিল করা হয়েছে সেই বিয়ে। যদিও কেন ওই সিদ্ধান্ত নিলেন যুগল, তা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানা যায়নি।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই কনস্টেবলই মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। এক জনের বাড়ি উত্তর মহারাষ্ট্রের একটি জেলায়। অন্য জন পুণে জেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের প্রশিক্ষণ শেষ করার পর তাঁদের দু’জনকেই অন্য নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে পুলিশ সদর দফতরে নিয়োগ করা হয়েছিল। শুরুতে তাঁরা অন্য দুই মহিলা কনস্টেবলের সঙ্গে একই আবাসনে থাকতেন। পরবর্তী কালে তাঁদের দু’জনকেই পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের একই থানায় বদলি করা হয়। ফ্ল্যাটের অন্য সঙ্গীরা চলে যাওয়ার পরেও তাঁরা একসঙ্গে থেকে যান। পুণের ‘ডেলি সিটি নিউজ়’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুলিশ কমিশনারেট গঠনের পর চাকরিতে যোগ দেওয়া ওই দুই কনস্টেবল গত তিন বছর ধরে একই জায়গায় কর্মরত আছেন। চাকরি করতে করতেই প্রথমে বন্ধুত্ব এবং পরে বন্ধুত্ব গড়িয়ে প্রেম। তাঁরাই বৈদিক রীতি মেনে বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেন। বিয়ের আমন্ত্রণপত্র-সহ ছুটির আবেদন জমাও দেন মহিলা কনস্টেবল যুগল।
আরও পড়ুন:
তবে দুই কনস্টেবলের বিয়ের বিষয়টি ভাল চোখে নেননি তাঁদের এক জনের পরিবারের সদস্যেরা। তাঁরা ইতিমধ্যেই ওই সম্পর্ক এবং বিয়ের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন। এর আগে তাঁরা থানায় গিয়ে মহিলা কনস্টেবল যুগলের সম্পর্কে বাকি কর্মীদের কাছে খোঁজখবর নিয়েছিলেন। তখন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা বাকি কর্মীদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে বিয়ের তারিখ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যেরা পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুলিশ কমিশনারেটের (পিসিপিসি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দ্বারস্থ হন এবং পদক্ষেপ করার দাবি জানান। জানা গিয়েছে, ওই পুলিশকর্তা তাঁদের বুঝিয়েছিলেন যে, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখা বা ব্যক্তিগত কোনও অনুষ্ঠান আয়োজন করা থেকে প্রাপ্তবয়স্ক দু’জনকে পুলিশ আটকাতে পারে না। তবে প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা পরামর্শমূলক সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
ঘটনাটি সমাজমাধ্যমেও হইচই ফেলেছিল। কনস্টেবল দম্পতিকে তাঁদের সাহস এবং সিদ্ধান্তের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছিলেন নেটাগরিকদের একাংশ। কিন্তু এখন খবর, বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তবে ব্যক্তিগত কারণ, না কি অন্য কোনও পরিস্থিতির কারণে তাঁরা ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, দু’জন মহিলা কনস্টেবলের মধ্যে এক জনের লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। জানা গিয়েছে, চিকিৎসার জন্য তিনি মুম্বইয়ের একটি বড় হাসপাতালে দু’-তিন বার গিয়েছেন ইতিমধ্যেই। লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের বিয়ে আইনত নিবন্ধন করা সম্ভব কি না, সে বিষয়টিও তাঁরা খতিয়ে দেখছিলেন। তবে বিয়ে বাতিলের সঙ্গে ওই চিকিৎসার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা-ও জানা যায়নি।
ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সমলিঙ্গের সম্পর্ক বজায় রাখা বৈধ। তবে বিয়ের আইনি স্বীকৃতি নেই। ওই দুই মহিলা কনস্টেবল ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান মেনে বিয়ে করলেও আইনত দম্পতির তকমা পেতেন না।