প্যারিসে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য পকেটমার বা ছিঁচকে চোরদের উপদ্রব দীর্ঘ দিন ধরেই একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। লুভর মিউজিয়াম, আইফেল টাওয়ার এবং শঁজ-এলিজে-র মতো বিখ্যাত দর্শনীয় স্থানগুলির আশেপাশে চুরি বা ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বেশি থাকে। অভিজ্ঞ পর্যটক এবং বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ বিষয়ক পরামর্শদাতারা প্রায়ই ভিড়ের এলাকায় পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে সম্প্রতি, প্যারিসে ঘুরতে গিয়ে চুরি আটকাতে এক তরুণী এমন এক অভিনব কৌশল প্রয়োগ করেছেন যা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ইন্টারনেটে।
আরও পড়ুন:
ভিক্টোরিয়া নামের ওই তরুণী ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়ো শেয়ার করে ফ্রান্সের রাজধানীতে ঘোরার সময় নিজের মূল্যবান জিনিসপত্র সুরক্ষিত রাখতে কী ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করেন, তা তুলে ধরেছেন। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, শহরে ঘুরতে শুরু করার আগে বাদামী রঙের প্যাকিং টেপ ব্যবহার করে নিজের গয়না, ফোন এবং ক্রস-বডি ব্যাগটি শরীরের সঙ্গে শক্ত করে আটকে নিচ্ছেন ভিক্টোরিয়া। কব্জি এবং আঙুলে টেপ পেঁচিয়ে ব্রেসলেট ও আংটিগুলো সুরক্ষিত করছেন। পাশাপাশি দুল, হার এবং সানগ্লাসও শরীরের সঙ্গে ভাল ভাবে আটকে নেন। সব শেষে, লুভর মিউজিয়াম এবং শহরটি ঘুরে দেখার আগে তিনি তার ফোনটি হাতের সঙ্গে শক্ত করে আটকে নেন। শরীরে টেপ লাগানোর উদ্দেশ্য একটাই, চুরি আটকানো। কেউ যাতে চট করে মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যেতে না পারেন, সে কারণেই ওই বন্দোবস্ত।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োর উপর লেখা রয়েছে, ‘‘প্যারিসে ঘুরতে এসে আমি প্রথমেই যে কাজটি করি...।’’ ক্যাপশনে লেখা, ‘‘বিষয়টি করতে হচ্ছে বলে খারাপ লাগছে। তবে সুন্দর প্যারিসে পকেটমারদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করাই শ্রেয়।’’ ভাইরাল ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন মজার মজার মন্তব্য করেছেন, তেমনই আবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। অভিনব নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুতই অনলাইনে হাসি-ঠাট্টা এবং আলোচনারও জন্ম দিয়েছে। অনেক ভ্রমণকারী মন্তব্য করেছেন, প্যারিসে পকেটমারির যে দুর্নাম রয়েছে, তাতে তরুণীর এই কৌশল বেশ যুক্তিযুক্ত। অন্য দিকে, কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন যে তরুণী চাইলে তাঁর দামি গয়নাগুলি রেখে আসতে পারতেন। অনেকে শহরে ঘোরার সময় নিজেদের পকেটমারির শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন। এক জন লিখেছেন, ‘‘এটা কোনও মজার বিষয় নয়। এটি একটি উন্নত দেশের বাস্তবতা। লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, বার্লিন— সব জায়গার ক্ষেত্রেই একই কথা প্রযোজ্য। তরুণী ভাল কৌশল বার করেছেন।’’ অন্য এক জন বলেন, ‘‘সব কিছু বাড়িতে রেখে দিলেই তো জীবনটা সহজ হয়। এতে প্যাকিং টেপ এবং পরিবেশ—উভয়ই বাঁচে। অহেতুক ঝামেলাও কমে।’’