বর্ণবিদ্বেষের শিকার চার বছরের বালিকাও। চেহারার জন্য ‘চিনা’ বলে কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে তাকেও। রাগ হয়েছে তার। প্রতিবাদ জানিয়েছে অরুণাচল প্রদেশের নাবালিকা। আর তার সেই প্রতিবাদ ঝড় তুলে দিয়েছে সমাজমাধ্যমে। সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের ইটানগরের বাসিন্দা চার বছরের ওই ছোট্ট শিশুর একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তার চেহারার কারণে তাকে ‘চিনা’ বলা নিয়ে প্রতিবাদ করেছে সে। আবেগঘন ভিডিয়োয় বছর চারেকের কার্গা টিঙ্কল স্পষ্ট করে দেয় যে, সে একজন ভারতীয়। সে জানিয়েছে, মুখের গড়নের জন্য তার জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে সে কষ্ট পায় এবং রেগে যায়।
কার্গার ভিডিয়োটি এক্সে (সাবেক টুইটার) নিজের হ্যান্ডলে শেয়ার করে তাকে সমর্থন এবং ভালবাসা জানিয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ভিডিয়োটিতে ওই নাবালিকা সোচ্চারে বলেছে, “আমরা ভারতীয়। আমাদের ‘চিনা’ বললে খুব রাগ হয়। দুঃখ হয়। ভারতীয় বলুন। আমরা ভারতের বাসিন্দা। আমি ইটানগরে থাকি।” দেশের জাতীয় সঙ্গীতও গেয়েছে সে। ছোট শিশুর এই প্রতিবাদ শুধু নেটমাধ্যমে ছড়িয়েই পড়েনি, তুলে দিয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও। দেশ জুড়ে বহু সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীর মনে দাগ কেটেছে তার সেই আবেগঘন ভিডিয়োটি। তাঁদের মধ্যে অনেকের দাবি, এই ঘটনা উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের একটি সমস্যাকে তুলে ধরেছে। এই অঞ্চলের মানুষেরা প্রায়ই শুধুমাত্র তাঁদের চেহারার কারণে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হন। একই কারণে তাঁদের দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তোলার অভিযোগ করেছেন অনেকে। যদিও ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভিডিয়োটি ভারতের জাতিগত এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র নিয়ে একটি বৃহত্তর আলোচনারও জন্ম দিয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চল দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য এবং ইতিহাস-সহ অসংখ্য সম্প্রদায়ের আবাসস্থল। অনেক নেটাগরিকই বিষয়টিতে মর্মাহত হয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এটি সত্যিই দুঃখের যে একটি শিশুকেও এটা বোঝাতে হয়েছে যে, সে ভারতেরই একজন।
আরও পড়ুন:
কিছু সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের পরিচয়ের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য তার প্রশংসা করেছেন। আবার অনেকে এর মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষদের ক্রমাগত অসংবেদনশীল মন্তব্য এবং বর্ণবিদ্বেষের শিকার হওয়ার অভিযোগের দিকটিও তুলে ধরেছেন।
নেটমাধ্যমে একজন লিখেছেন, “অরুণাচল প্রদেশের এই নিষ্পাপ ছোট্ট মেয়েটির কষ্ট পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট! চিন যখন আমাদের সীমান্তে চোখ রাঙায়, তখন অরুণাচলের এই লোকেরাই শত্রু দেশের কার্যকলাপের খবর আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। উত্তর-পূর্বের আমাদের ভাই-বোনেরা অন্য কারও চেয়ে এক বিন্দুও কম দেশপ্রেমী নন।” আরও একজন মন্তব্য করেছেন, “ভারতের বাকিদের বুঝতে হবে যে, উত্তর-পূর্বের মানুষেরা আমাদের দেশেরই অংশ, আমাদের পরিবার। আমরা তাঁদের এই ভাবে বলতে পারি না। দেখুন, বাচ্চাটি কত মিষ্টি করে বলছে যে লোকে তাকে ‘চিনা’ বললে তার কষ্ট হয়। দয়া করে এমনটা করবেন না। তারা আমাদের প্রিয় ভাইবোন।” অন্য একজন বলেছেন, “কোনও শিশুকেই যেন তার নিজের দেশে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য এমন কাকুতিমিনতি করতে না হয়। যাঁরা অবলীলায় উত্তর-পূর্ব ভারতীয়দের ‘চিনা’ বলে ডাকেন অথবা চেহারা দেখে তাঁদের বহিরাগত হিসাবে গণ্য করেন, তাঁরাই এই বেদনাদায়ক পরিস্থিতি তৈরি করছেন। তাঁদের এই কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ভারতের শক্তি তার বৈচিত্র্রের মধ্যেই নিহিত।”
আরও পড়ুন:
ভাইরাল হওয়ার দিন দুয়েক পর আরও একটি ভিডিয়োয় সমর্থকদের হাসিমুখে ধন্যবাদ জানাল নাবালিকা। ভিডিয়োয় তার মা তাকে জানান, “এ বার তোমাকে সবাই ভারতের মেয়ে বলছেন।” শিশুটিও খুশি হয়ে বলে, “আমি ভারতীয় হলাম। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।” প্রতিবাদের ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পর সমাজমাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে শিশুটির অনুসারীর সংখ্যা।