চিনা কাচ প্রস্তুতকারী সংস্থা হয়তো ফ্রান্সের বিক্ষোভের মাঝেই তাদের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য বিজ্ঞাপনটি খুঁজে পেল। এমনই দাবি ঘিরে তোলপাড় সমাজমাধ্যম। সেখানে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, বার বার চেষ্টা করেও একটি দোকানের কাচের দেওয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হন ফ্রান্সের বিক্ষোভকারীরা। মনে করা হচ্ছে, এই ভাইরাল ভিডিয়োটিই ওই সংস্থাকে তাদের কাচের দৃঢ়তা প্রদর্শনের সুযোগ করে দিয়েছে। আসলে কী ঘটেছিল?
ফ্রান্সের পুঁজিবাদ-বিরোধী বিক্ষোভ চিনা কাচ প্রস্তুতকারী সংস্থাকে দুর্দান্ত বিজ্ঞাপনের সুযোগ করে দিল। সেটিও কাচ না ভেঙেই। খবর, গত সপ্তাহের বিক্ষোভ চলাকালীন একটি দোকানের বাইরের কাচের প্যানেলে লাথি মারতে থাকেন কয়েকজন মুখোশধারী। ভিডিয়োয় দেখা যায়, লোহার রড এবং শিক দিয়ে আঘাত করতে থাকেন তাঁরা, শপিং কার্ট দিয়ে ধাক্কা মারতেও দেখা যায় তাঁদের। ওই দেওয়ালটিতে ক্রমাগত ইট এবং পাথর ছুড়তে থাকেন প্রতিবাদীরা। কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয় হল, তীব্র আঘাতের ফলে প্যানেলটিতে মাকড়সার জালের মতো চিড় ধরলেও, তা অক্ষত থাকে। ফলে, ভিতরে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন বিক্ষোভকারীরা। সমাজমাধ্যমে নিমেষে ভাইরাল হয় ভিডিয়োটি। আলোচনা শুরু হয় কাচের প্যানেলটির প্রস্তুতকারী সংস্থাকে নিয়েও।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রস্তুতকারী সংস্থাটিকে ‘হেংজিনফেং স্পেশাল-গ্লাস কোং লিমিটেড’ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, চিনের ওই কোম্পানি তাদের কাচের পণ্যের শক্তি এবং স্থায়িত্ব তুলে ধরতে ভাইরাল হওয়া বিক্ষোভের ফুটেজটি শেয়ার করেছে।
কোম্পানিটি তাদের পণ্যের আপাত সহনশীলতা তুলে ধরতে ক্লিপটি সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছে। সেই ভিডিয়োর সত্যতা অবশ্য যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। চিনের হেনান প্রদেশের পিংডিংশানে অবস্থিত সংস্থাটি ব্যাঙ্ক, গয়নার দোকান, জাদুঘর এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন, এমন জায়গাগুলিতে ব্যবহৃত কাচ তৈরিতে বিশেষজ্ঞ। দাবি করা হয়, তাদের তৈরি কয়েক স্তরবিশিষ্ট ওই কাচ বা কাচের প্যানেল বুলেট এমনকি বিস্ফোরণেও ভাঙে না। এ দিকে, সংশ্লিষ্ট ক্লিপটি ভাইরাল হয়ে যায়, যা ফ্রান্সের হিংসার দৃশ্যকে একটি অপ্রত্যাশিত বিজ্ঞাপনে পরিণত করে। কিছু প্রতিবেদনে কাচটিকে প্যারিসের একটি নামী সংস্থার স্টোরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তবে, প্যানেলটি আসলে কোথায় ছিল, বা তার প্রস্তুতকারী সংস্থা কারা, সে সব যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ফ্রান্সে দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের কর্মসূচির মাধ্যমে, যা পরবর্তী কালে সে দেশের বেশ কয়েকটি শহরে হিংসা এবং লুটপাটের রূপ নেয় বলেও দাবি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রায় ৩,০০০ দোকানে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিমা বাবদ খরচের পরিমাণ কয়েক কোটি ইউরোয় পৌঁছেছে বলে অনুমান।
সমাজমাধ্যমে সমালোচকেরা এ সবের মধ্যেই পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে চলা প্রতিবাদে চিন থেকে আসা একটি কাচের প্যানেলকে শক্তিশালী হিসেবে দেখানোর মধ্যে যে পরিহাস রয়েছে, তা তুলে ধরেন। এক জন রসিকতা করে লিখেছেন, “পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে পুঁজিবাদী কাচের চেয়ে সাম্যবাদী কাচ ভাল প্রমাণিত হল। এ-ও এক পরিহাস!” আরও একজন পাল্টা মন্তব্যে লিখেছেন, “তা হলে আপনি বলছেন যে সাম্যবাদের কাচ পুঁজিবাদের কাচের চেয়ে উন্নত মানের? ১০/১০।” অন্য অনেকেই চিনা উৎপাদনের গুণমান সম্পর্কে পরিবর্তিত ধারণার উপর আলোকপাত করেছেন। এক নেটাগরিকের বক্তব্য, “মানে, ওরাই তো চিনের মহাপ্রাচীর তৈরি করেছিল। এমনিই বললাম আর কী!” অপর একজন প্রশ্ন করেছেন, “চিনে তৈরি জিনিস এত মজবুত?”