Advertisement
E-Paper

৩৬তলা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন, প্রাণ বাঁচিয়েছিল একটি গাছ! নেটপ্রভাবীর সুস্থ হয়ে ফেরার অবিশ্বাস্য গল্প ভাইরাল

জানা যায়, দুর্ঘটনায় একাধিক হাড় ভেঙে গিয়েছিল চিনা নেটপ্রভাবীর। খুলির ভিতরে রক্তক্ষরণ হয়েছিল, ঘাড়, মেরুদণ্ড এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গে আঘাত লেগেছিল। এমনকি, ডান পায়ের নীচের অংশও বাদ পড়ে তরুণীর।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩৯
Chinese Influencer Viral Video

ছবি: সংগৃহীত।

প্রায় দেড় বছরের মরণপণ লড়াই। মৃত্যুকে হারিয়ে শেষমেশ সমাজমাধ্যমে ফিরলেন চিনের বিখ্যাত সমাজমাধ্যম প্রভাবী। গত বছরের জুনে হুনান প্রদেশের একটি ভবনের ৩৬ তলা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন ওয়ানানান। কিন্তু, প্রায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন ২৭ বছর বয়সি ওই চিনা তরুণী নেটপ্রভাবী। প্রায় ১৭ মাস পর সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ফিরেছেন তিনি। সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা এবং জীবন সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। মুহূর্তে ভাইরাল তাঁর সেই ভিডিয়ো। অবশ্য ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

মধ্য চিনের হুনান প্রদেশের বাসিন্দা ওয়ানানান এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) গত ১২ অক্টোবর নিজের অ্যাকাউন্টে ফিরে এসে বলেন, “আমার পুনর্জন্ম হয়েছে।” ২০২৫ সালের জুনে দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন তিনি। সমাজমাধ্যমে এই ভিডিয়ো শেয়ার করে ওই নেটপ্রভাবী জানিয়েছেন, দীর্ঘ চিকিৎসা এবং থেরাপির পর তিনি প্রায় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রায় ১৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার হয়েছিল নেটপ্রভাবীর। তার পর ৫০ দিন আইসিইউ-তে ছিলেন তিনি। খবর, তাঁর ডান পায়ের একটি অংশ বাদ পড়ে। জানা গিয়েছে, সমাজমাধ্যমে তাঁর প্রত্যাবর্তনের ভিডিয়োটিতে ১৭ লক্ষ পছন্দচিহ্ন এঁকে দিয়েছেন অনুরাগীরা। অবিশ্বাস্য আরোগ্যলাভের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ওয়ানানান এই কঠিন সময়ে যাঁরা তাঁকে সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সংবাদসংস্থা সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর তাঁকে জরুরি চিকিৎসার জন্য সেন্ট্রাল সাউথ ইউনিভার্সিটির থার্ড জিয়াংইয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রত্যাবর্তন পোস্টে তাঁর বেঁচে ফেরাকে একটি নতুন সূচনা হিসেবে বর্ণনা করে সমাজমাধ্যম প্রভাবী জানান, তাঁর মনে হচ্ছে যেন তিনি জীবনে আরও একটি সুযোগ পেয়েছেন। নেটপ্রভাবীর মতে, তিনি এখন তাঁর জীবনকে শুধু নিজের নয়, বরং যাঁরা তাঁকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছেন, তাঁদের সকলের বলে মনে করেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপায় হিসেবে তিনি তাঁর এই দ্বিতীয় সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জানা গিয়েছে, পড়ে যাওয়ার পর তরুণীকে দ্রুত সেন্ট্রাল সাউথ ইউনিভার্সিটির থার্ড জিয়াংইয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর জীবন বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। তাঁর একাধিক হাড় ভেঙে গিয়েছিল, খুলির ভিতরে রক্তক্ষরণ হয়েছিল, ঘাড়, মেরুদণ্ড এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে আঘাত লেগেছিল। তাঁর বেঁচে যাওয়ার নেপথ্যে একটি গাছ এবং ঝোপঝাড়েরও অবদান ছিল। জানা যায়, তিনি গাছের উপর পড়ে যাওয়ায় আঘাত কিছুটা হলেও কমে। ভাগ্যক্রমে মুখ এবং হাতে গুরুতর আঘাত লাগেনি।

তরুণী প্রভাবী এখনও থেরাপি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং শীঘ্রই একটি কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা করছেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি এখনও হেঁটে আমার পছন্দের জায়গায় যেতে পারি। আর যদি হাঁটতে না পারি, তা হলে একটা ট্যাক্সি ডেকে নিই। যে কষ্ট আমি পেয়েছি, তা আমাকে ধ্বংস করতে পারেনি বরং নিজেকে গড়ে তুলতে আমি তা কাজে লাগাতে চাই। জীবনে শুধু চাকচিক্যই থাকবে এমনটি নয়, বরং ভাঙা টুকরোগুলিকে আবার জোড়া লাগানোর সাহস রাখতে হবে। একবার যা হারিয়ে গিয়েছে, তা আর হারাবে না।” তাঁর নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যেও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই তাঁর বেঁচে থাকা এবং সুস্থ হয়ে ওঠায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এক জন মন্তব্য করেছেন, “৩৬ তলা থেকে পড়েও তিনি যে বেঁচে গিয়েছেন, তা এক বিস্ময়।” আরও এক জন লিখেছেন, “আপনি খুব ভাগ্যবান। ভবিষ্যতে আপনার জীবনে শান্তি এবং সুখ প্রার্থনা করছি।”

Fight for survival Chinese Influencer comeback

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy