কৃত্রিম মেধার বিরুদ্ধে ‘মানবাধিকারের’ দাবিতে প্রতিবাদ এআই-চালিত রোবটদের। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সম্প্রতি সেই দৃশ্যেরই সাক্ষী থাকল পোল্যান্ড। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এবং এআইয়ের কারণে মানুষের চাকরি হারানোর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়ারশতে রাস্তায় নেমেছিল প্রায় ৩০টি রোবট। সে দেশের ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রকের বাইরে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদটি দেখা গিয়েছে। হিউম্যানয়েড রোবট এবং রোবট কুকুরেরা যোগ দিয়েছিল বিক্ষোভে। কৃত্রিম মেধার উপর নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর নিয়মের দাবি জানিয়েছে তারা।
রাস্তায় মিছিলে পতাকা হাতে স্লোগান। ছিল পুলিশ এবং প্রশাসনের লোকজন। কিন্তু, মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা কেউ মানুষ নয়, রোবট! মানুষের চাকরি বাঁচাতে এ বার তাদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদে সামিল রোবটেরাই। ‘ডেমোক্র্যাটিজ়ম’ নামের একটি সংস্থার উদ্যোগে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়েছিল দিনকয়েক আগে। সেখানে রোবটগুলি মন্ত্রকের বাইরে গোল করে প্রদক্ষিণ করে। “কর্মক্ষেত্র রক্ষা করুন”, লাউডস্পিকারে স্লোগানও দিতে থাকে তারা। আয়োজকদের মতে, এই বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ছিল কৃত্রিম মেধা বা এআই এবং রোবটাইজ়েশন কী ভাবে কর্মক্ষেত্রকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে একটি বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করা। একই সঙ্গে তাঁরা এটিও দেখাতে চান, এই প্রযুক্তি এখন আর কোনও সুদূরপ্রসারী বিষয় নয়।
বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল অ্যাগিবট এ৩, একটি এআই-চালিত হিউম্যানয়েড রোবট এবং দুই পা-বিশিষ্ট হিউম্যানয়েড রোবট থেকে শুরু করে রোবট কুকুরের মতো বিভিন্ন ধরণের যন্ত্র। এই প্রতিবাদের ভিডিয়োগুলি স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। ‘সাইমাকোমল’ নামের এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করা এমনই একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, রোবটগুলি পতাকা এবং প্ল্যাকার্ড ধরে রয়েছে। লাউডস্পিকারে, ‘কর্মক্ষেত্র রক্ষা করুন’, ‘নিয়মকানুন তৈরির সময় এসেছে’, ‘অপেক্ষা নয়, নিয়ন্ত্রণ করুন’ ইত্যাদি স্লোগান শোনা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
আয়োজকদের তরফে সতর্ক করা হয়, লাগামহীন ভাবে এআই ব্যবহার এবং ক্রমশ উন্নত হতে থাকা হিউম্যানয়েড রোবট ভবিষ্যতে মানুষের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। পোল্যান্ডের এক মন্ত্রী কৃত্রিম মেধার ঝুঁকির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মানুষ সবার আগে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইতিমধ্যেই ‘এআই অ্যাক্ট’ পাশ হয়েছে। পোল্যান্ডেও তা চালু করার পাশাপাশি এআই-এর অপব্যবহার বন্ধ করার জন্য সরকার শীঘ্রই ব্যবস্থা নেবে বলেও আশ্বাস মন্ত্রীর। তবে সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, “ভবিষ্যতে রোবটদের চাকরি নিয়ে যদি সত্যিই সমস্যা হয়, তখন তাদের হয়ে মিছিল করবে কে?”