পৃথিবীর সবচেয়ে সরু মনুষ্যচালিত গাড়ি তৈরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন এক ইটালীয় তরুণ। নাম আন্দ্রেয়া মারাজ়্জ়ী। ৩০ বছর বয়স তাঁর। গাড়িটির প্রস্থ মাত্র ৫০.২০ সেন্টিমিটার (প্রায় ২০ ইঞ্চি)।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, পেশায় আন্দ্রেয়া এক জন মেকানিক। পুরনো গাড়ি ভাঙার বা অকেজো গাড়ি থেকে যন্ত্রাংশ আলাদা করার কাজ করে তার পরিবার। একটি পুরনো গাড়িকে না ভেঙে অন্য রকম কিছু করার ভাবনা তাঁর মাথায় আসে। ১৯৯৩ সালের একটি ফিয়াট পান্ডাকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন তিনি। আসল গাড়িটি প্রায় ১.৪৬ মিটার চওড়া ছিল।
আরও পড়ুন:
আন্দ্রেয়া জানিয়েছেন, গাড়িটির মাঝখান থেকে একটি বড় অংশ কেটে বাদ দেন তিনি। এর পর অবশিষ্ট পাশগুলো পুনরায় ঝালাই করে এই অত্যন্ত সরু গাড়ির কাঠামোটি তৈরি করেন। ফলে এমন একটি গাড়ি তৈরি হয়েছে যা দেখতে পরিচিত চারচাকার মতোই। তফাত এটুকুই যে এটি খুবই সরু। গাড়িটিতে একটি মাত্র আসন এবং হেডলাইটের সঙ্গে বৈদ্যুতিক মোটরও রয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দ্রেয়া। মোটরটিতে এক বার চার্জ দিলে সেটি ২৫ কিমি পথ অতিক্রম করতে পারে বলে দাবি তাঁর। এটির গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ কিমি। ওজন ২৬৪ কেজি। গাড়িটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্ল্যাট ফিয়াট’।
আরও পড়ুন:
গাড়িটির একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। সেখানে দেখা গিয়েছে, চালকের আসনে বসে গাড়িটি নিয়ে এ দিক-ও দিক যাচ্ছেন আন্দ্রেয়া। তবে সেটি এতই সরু যে চালকের হাত দু’টি বাইরে বেরিয়ে এসেছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের শংসাপত্র হাতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে।
বহু নেটাগরিক দেখেছেন ভিডিয়োটি। অনেকেই ভালবাসার চিহ্ন এঁকে দিয়েছেন। বিশ্বরেকর্ড গড়ার জন্য আন্দ্রেয়াকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অনেকেই। এক জন আবার মজার ছলে লিখেছেন, “এমন একটা গাড়ি থাকলে কখনওই ট্রাফিক জ্যামে ফাঁসব না।” তবে, গাড়িটি বাজারজাত করা হবে কি না, সে সম্পর্কে কিছু জানাননি ইটালীয় তরুণ।