Advertisement
E-Paper

বারুইপুরে তৃণমূল নেতার বাড়িতে বিস্ফোরণ, টিনের চাল উড়ে গিয়ে পড়ল ১০০ মিটার দূরে! শুরু রাজনৈতিক তরজা

বারুইপুর পূর্বের উত্তরভাগের লালপোলের কাছে দোতলা বাড়ি তৃণমূল নেতা দ্বিজেন মণ্ডলের। বৃহস্পতিবার রাতে সেই বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:০৩
A TMC leader house explosion in Baruipur

বারুইপুরে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত তৃণমূলনেতার বাড়ি। —নিজস্ব চিত্র।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে তৃণমূল নেতার বাড়িতে বিস্ফোরণ। উড়ে গেল জানলা, দরজা। ছাদের টিন উড়ে গিয়ে পড়ল ১০০ মিটার দূরে! ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। বাড়িতে কোনও বিস্ফোরক মজুত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বাড়ি কোনও এক জায়গা থাকা সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। যদিও এলাকাবাসীর একাংশের প্রশ্ন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি হতে পারে?

বারুইপুর পূর্বের উত্তরভাগের লালপোলের কাছে দোতলা বাড়ি তৃণমূল নেতা দ্বিজেন মণ্ডলের। তিনি রামনগর যুব তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে প্রায় গোটা বাড়িটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আশপাশের বাড়িগুলিরও কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে।

বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই আগুন লেগে যায় ওই বাড়িতে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় দমকল এবং বারুইপুর থানার পুলিশ। দমকল বাহিনীর তৎপরতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কী থেকে বিস্ফোরণ, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় এবং বিজেপি নেতাদের দাবি, দ্বিজেনের বাড়িতে প্রচুর বোমা মজুত ছিল। বারুইপুর পূর্ব ব্লক-২ বিজেপির মণ্ডল সভাপতি দীপঙ্কর কর্মকারের কথায়, ‘‘তৃণমূলের জমানায় এমন বিস্ফোরণ অনেক বার দেখেছি। তবে আমাদের বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এমন বিস্ফোরণ দেখিনি।’’ তাঁর অভিযোগ, দ্বিজেনের বাড়ি ছিল দুষ্কৃতীদের আড্ডাখানা। ভোটের আগে প্রায়ই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী আনাগোনা ছিল এই বাড়িতে। নানা বৈঠক হত। দীপঙ্করের কথায়, ‘‘আমরা ভেবেছিলাম ভোটের পর হয়তো বাড়িতে মজুত বোমা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে তা যে হয়নি, এই বিস্ফোরণই তার প্রমাণ।’’

ভোটের পর থেকেই এলাকাছাড়া দ্বিজেন। তাঁর খোঁজে বিভিন্ন দিকে তল্লাশি অভিযান চলছে। বিস্ফোরণের সময় সম্ভবত বাড়ি ফাঁকাই ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিজেপি বোমা মজুতের অভিযোগ তুললে পুলিশের প্রাথমিক দাবি, এই ঘটনা সিলিন্ডার ফেটেও হতে পারে। বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস শুক্রবার সকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিশেষজ্ঞ নই। প্রাথমিক ভাবে দেখে মনে হচ্ছে, বাড়িতে সিলিন্ডার জাতীয় কিছু থাকতে পারে। সেটা থেকে বিস্ফোরণ। তবে আসল কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক দলকেও ডাকা হবে। তারা দেখে জানাতে পারবে কী থেকে হয়েছে।’’ দমকলও বিস্ফোরক জাতীয় কোনও পদার্থের অস্তিত্ব পায়নি বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছে। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়া গেলেই বিস্ফোরণের আসল কারণ স্পষ্ট হবে।

বারুইপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘ভোটের ফলপ্রকাশের পরই দ্বিজেনকে প্রাণের মারার হুমকি দেওয়া হয়। সেই কারণে ও বাড়ি ছে়ড়ে পালিয়ে যায়। পিয়ালিতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। প্রাণে মারার জন্য সেখান থেকে ধরে নিয়ে আসা হচ্ছিল। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। ও বাড়িতে নেই। তা হলে ওর বাড়িতে বোমা কে রাখল?’’ শ্যামসুন্দর অভিযোগ, দ্বিজেনের বাড়ি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

Tmc Leader Baruipur Explosion

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy