সম্পত্তির লোভে বাবাকে নৃশংস ভাবে খুনের অভিযোগ উঠল ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বারুইপুর থানার শিখরবালি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ধনবেড়িয়া গ্রামে। মৃত বৃদ্ধের নাম জ্যোতিরিন্দ্রনাথ নস্কর (৭২)।
মঙ্গলবার তাঁর নিজের বাড়িতেই ছেলে রামপ্রসাদ নস্কর ও পুত্রবধূ শিখা নস্কর মিলে বৃদ্ধের হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন। শাবল দিয়ে শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ। বৃদ্ধ আর্তনাদ করলেও তাঁকে ঘরের বাইরে বেরোতে দেয়নি অভিযুক্তেরা।
সূত্রের খবর, মারধর করার সময় পুত্রবধূ শিখার চোখে আঘাত লাগে। এর পর স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে নিয়ে যান রামপ্রসাদ। সেই সময়েও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রক্তাক্ত দেহে ঘরের মধ্যেই পড়েছিলেন বৃদ্ধ। বিকেলে বাড়ি ফিরে ছেলে ও বৌমা দেখেন, ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে জ্যোতিরিন্দ্রনাথের।
আরও পড়ুন:
বৃদ্ধকে কেন মারধর করা হল, সে ব্যাপারে শিখাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘‘উনি ‘ভাত খাব, ভাত খাব’ বলে সবসময় চিৎকার করেন। বাইরের লোককে বলেন, আমরা নাকি ওনাকে খেতে দিই না। মঙ্গলবার সকালে ওনার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। আমার চোখে আঘাত করেন উনি। তখন আমার স্বামীকে ডেকে তুলি।’’
প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের বক্তব্য, এর পরেই তাঁরা অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে তুমুল শোরগোলের আওয়াজ শুনতে পান। বৃদ্ধকে শাবল দিয়ে আঘাত করার সময় একটা ধাতব আওয়াজ শোনা গিয়েছিল বলেও দাবি করেছেন এক প্রতিবেশী। সেই আওয়াজ শুনে বাইরে এসে তিনি দেখেন, বাড়ির পিছন দিকে নিয়ে গিয়ে জ্যোতিরিন্দ্রনাথকে শাবল দিয়ে বেধঢ়ক মারছেন তাঁর ছেলে।
ঘটনার পর প্রথমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ঘরের বিছানা ও তোশকে চাপ চাপ রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে পরিজনেরা স্থানীয় থানায় খবর দেন। বারুইপুর থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। ইতিমধ্যেই পুত্রবধূ শিখাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ছেলে রামপ্রসাদ এখনও পলাতক। তাঁকে দ্রুত খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
ধৃত শিখাকে বুধবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলার কথা। ঘটনায় জড়িতদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতের আত্মীয় ও স্থানীয় বাসিন্দারা।