বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বুধবার বারাসত আদালতে আবার জমা পড়ল চার্জশিট। দেবরাজের সঙ্গেই তাঁর স্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধেও জমা দেওয়া হয়েছে চার্জশিট। তাঁদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ পুলিশ এনেছে তার মধ্যে রয়েছে সিন্ডিকেট চক্র চালানো, জমি দখল, তোলাবাজি এবং প্রতারণা।
সূত্রের খবর চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, বেআইনি পথে প্রাপ্ত ওই টাকার একাংশ তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে (জল্পনায় রয়েছে ‘ ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামও। মামলার চার্জশিট জমার পরে সরকারি আইনজীবী বুধবার বলেন, ‘‘বেআইনি পথে পাওয়া টাকার অঙ্ক ১০০ কোটির কম নয়।’’ ভোটের আগে সেই টাকার একাংশ অন্যত্র সরানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গে বলেন, ‘‘এই মামলা নিয়ে একটি হুমকি পেয়েছি আমি। পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।’’
আরও পড়ুন:
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র ১১১ ধারা-সহ একাধিক ধারায় জমা দেওয়া ওই চার্জশিটে পরবর্তী তদন্তের সম্ভাবনা এবং প্রয়োজনে আরও অতিরিক্ত (সাপ্লিমেন্টারি) চার্জশিট পেশের কথাও জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে। সরকারি আইনজীবী বলেন, ‘‘বেআইনি পথে পাওয়া টাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। বৈদ্যুতিন এবং অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে।’’ এর আগে গত ৬ অগস্ট দেবারাজের বিরুদ্ধে বারাসত আদালতে প্রথম চার্জশিট জমা পড়েছিল।
প্রসঙ্গত, সম্পত্তির হিসাব নয়ছয়ের অভিযোগে দেবরাজ এবং অদিতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তরিত করেছেন রাজারহাট-গোপালপুরের তৎকালীন বিধায়ক অদিতি এবং তাঁর স্বামী। দেবরাজ নিজে বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর ছিলেন। এলাকায় প্রভাবশালী বলেই পরিচিত। দম্পতির বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন সম্পত্তি, তা গোপন করা এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি, নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তি কম করে দেখানোর অভিযোগও উঠেছে অদিতির বিরুদ্ধে। রক্ষাকবচ চেয়ে দেবরাজ এবং অদিতি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শিশুসন্তানের জন্য অদিতিকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু দেবরাজের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। গত ১ জুলাই দেবরাজকে পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করেছিল বিধাননগর পুলিশ এবং রাজ্য এসটিএফের যৌথবাহিনী।