Advertisement
E-Paper

মেয়েটি তো দাদার দোকানে গিয়ে ঝামেলা করত, বিশ্বাস হয় না এটা ওর কাজ: গাইঘাটায় ‘এনকাউন্টারে’ নিহতের ভাই

নিহতের ভাইয়ের মন্তব্য, ‘‘রাত ২টোর সময় এসেছিলেন স্যারেরা। এসে বাবা-মাকে বললেন, আপনাদের যেতে হবে। তখনও ওঁরা কেউ বলেননি যে এনকাউন্টার হয়েছে। আমি ভাবতে পারিনি দাদা এমন কাজ করতে পারে।’’

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫৫

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গাইঘাটার ‘নির্যাতিতা’ এবং ‘এনকাউন্টারে’ নিহত অভিযুক্ত, পূর্বপরিচিত এবং দূর সম্পর্কের আত্মীয়ও। পরস্পরকে তাঁরা খুব ভাল ভাবে চিনতেন। তাঁদের ঘনিষ্ঠতাও ছিল বলে দাবি নিহত প্রহ্লাদ দাসের ভাই ধ্রুব দাসের। ওই তরুণ জানান, তাঁর দাদার দোকানে মাঝেসাঝে যেত একাদশ শ্রেণির ছাত্রীটি। দু’জনের প্রায়শই ঝগড়া হত। বাড়িতেও সে কথা বলেছিলেন দাদা। এখন দাদা পুলিশকে গুলি করে পালাতে চেয়েছিলেন শুনে আরও বিস্মিত বছর কুড়ির ওই তরুণ বলেন, ‘‘আমি ভাবতে পারছি না...!’’

রবিবার একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল প্রতিবেশীর বাড়ির পিছনে। প্রাথমিক তদন্তের পর মেয়েটির দূর সম্পর্কের আত্মীয় প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের অনুমান, মেয়েটিকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ওই যুবক। কিশোরী তাতে রাজি না হওয়ায় ভারী কিছু দিয়ে তার মাথায় মারেন। মেয়েটি জ্ঞান হারালে, তার উপরে অত্যাচার চালানো হয়। মেয়েটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন ওই যুবক। তাঁর শরীরে ধস্তাধস্তি, নখের আঁচড় ইত্যাদি দেখা গিয়েছে বলে দাবি পুলিশ সূত্রের। সোমবার মাঝরাতে ধৃতকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণে যাচ্ছিল পুলিশ। অভিযোগ, একটা সময়ে পুলিশের রিভলভার কেড়ে নিয়ে পালাতে যান অভিযুক্ত। পুলিশের দাবি, তিন রাউন্ড গুলি চালান তিনি। পাল্টা গুলিতে মৃত্যু হয় প্রহ্লাদের। মৃতের ভাই জানান, সোমবার মাঝরাতে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিল। বাবা-মাকে ‘যেতে হবে’ বলে ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ। সকালে শুনলেন, দাদা ‘এনকাউন্টারে’ নিহত।

ধ্রুব বলতে থাকেন, ‘‘রাত ২টোর সময় এসেছিলেন স্যারেরা। এসে বাবা-মাকে বললেন, আপনাদের যেতে হবে। তখনও ওঁরা কেউ বলেননি যে এনকাউন্টার হয়েছে। আমি ভাবতে পারিনি দাদা এমন কাজ করতে পারে।’’ ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তের ভাইয়ের দাবি, ঘটনার দিন শনিবার দাদাকে তিনি দেখেছেন। রাতে বাড়ি ফিরে ঘুমিয়েছিলেন। অস্বাভাবিক কিছু নজরে পড়েনি। সকালে তিনি শুনলেন যে, দাদা ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত! তরুণ বলেন, ‘‘দাদা এমন কাজ করতে পারে আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। আশপাশে প্রতিবেশীদের কাছে শুনে দেখুন আপনারা। আমার মতো সবাই শুনে অবাক হয়ে গিয়েছে। তার পর শুনলাম, দাদা পালাতে গিয়েছিল...।’’

পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছিল, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত জানিয়েছিলেন ওই স্কুলছাত্রী তাঁর মাকে নিয়ে খারাপ কথা বলেছিল। সে নিয়ে তাঁর রাগ হয়েছিল। শুধু এই কারণে যে এমন একটা কাণ্ড ঘটাবেন, তা-ও মনে করেননি তদন্তকারীরা। ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন সোমবার রাতে ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হলেন ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত।

Gaighata Police Encounter Rape and Murder West Bengal Police

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy