বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স হয়েছে, আর ভোটে না দাঁড়ানোই ভাল। শুক্রবার বারুইপুরের সভা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লিতেই চলে যেতে বললেন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার কথা মমতার। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুর কটাক্ষ, ‘‘আপনি রামলীলা ময়দানে যান, পশ্চিমবঙ্গে আর কিছু হবে না।’’ শনিবার মমতার সঙ্গে দিল্লি যাওয়ার কথা আছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। এ দিনের জনসভা থেকে তাঁকেও বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটে দাঁড়ালেই হারানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুভেন্দুর জোড়া কটাক্ষের উত্তরে তাঁকে ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ’ আখ্যা দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির জয়ী প্রার্থী হাসিরানি রথের শপথ অনুষ্ঠানে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র রেখে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘‘ভবানীপুর ছাড়লে যিনি আমার কাছে দু’বার হেরেছেন, তিনি দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন। এই বয়সে তাঁর না দাঁড়ানোই ভাল। অনেক বয়স হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৭৫। এই বয়সে বিশ্রাম নেওয়ার কথা।’’ শুক্রবার অবশ্য মমতা ভোটে দাঁড়ালে আবার তাঁকে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে মমতার আর কোনও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই। তাঁর দিল্লিতে থাকাই ভাল। বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান মাঠের জনসভায় বলেছেন শুভেন্দু। ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে যাবেন কি না, তা তো শুভেন্দু অধিকারীর কথায় হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াইয়ে বিশ্বাস করেন। তিনি লড়াই করছেন।’’ পাল্টা বলছেন দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। সঙ্গে জুড়েছেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী প্রতিহিংসা এবং প্রতিশোধপরায়ণ, তা সকলে জানে।’’
শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণতার অভিযোগ অভিষেকও তুলেছিলেন, বৃহস্পতিবার। বলেছিলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে ৩০টা কেস করেছে। আরও ৫০টা করুক... ছয়-সাত বছর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে চেষ্টা করেছে। ভাবছেন জেলে রেখে জব্দ করবেন।’’ ইডি, সিবিআই থেকে কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশ, সবাইকে তাঁর বিরুদ্ধে নামানো হলেও তিনি দমবেন না বলে দাবি করেছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। শুক্রবার তার জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিষেকের নাম না নিয়ে বলেছেন, ‘‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বড় চোরটা কবে জেলে যাবে? সব কিছুই সময়মতো করতে হয়।’’ এর পরে অভিষেককেও ভোটে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে গিয়ে অবশ্য আর কোনও রাখঢাক করেননি। ‘‘অভিষেক, তুমি ভোটে দাঁড়ালেই হারাব। তুমি যত ভোটে জিতেছ, তার থেকে এক ভোট বেশি হলেও হারাব।’’ বলেছেন শুভেন্দু। ২০২৪-এর ভোটে ডায়মন্ড হারবার থেকে রেকর্ড ভোটে জিতেছিলেন অভিষেক। ব্যবধান ছিল ৭ লক্ষ ১০ হাজার। ’২৬-এর বিধানসভা ভোটে অবশ্য ছবিটা অনেকটাই পাল্টেছে। অভিষেকের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতগাছিয়া বিধানসভা আসনটি আগেই জিতেছিল বিজেপি। ৪ মে-র পরে ভোট হওয়া ফলতা আসনে নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে জাহির করা জাহাঙ্গির খানকে বিপুল ভোটে হারিয়েছে তারা। জেলবন্দি জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে এ দিন ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু।
শুভেন্দু যে চ্যালেঞ্জই ছুড়ুন না কেন, দল ‘সুযোগ দিলে’ তিনি যে ফের ডায়মন্ড হারবারেই দাঁড়াতে চান সেটা এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিষেক। শুভেন্দুর আত্মবিশ্বাসের পিছনে জ্ঞানেশ কুমার রয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। ‘‘অঙ্ক কষে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে লিস্ট দিয়ে দেওয়া হয়েছে? যে ভাবে অঙ্ক কষে ৩০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল।’’ পাল্টা কটাক্ষ অভিষেকের। সঙ্গে সংযোজন, ‘‘আসলে চুরি করে জিতেছেন তো, তাই এখনও শয়নে স্বপনে অভিষেককে দেখছেন।’’
আরও পড়ুন:
বারুইপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন তোপ দেগেছেন বামপন্থী এবং ককরোচ পার্টির নেতা-সমর্থকদেরও। কয়েক দিন আগে কাকদ্বীপে সভা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, সে দিনই বারুইপুরে জনসভা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘বারুইপুরে আরশোলা, ছারপোকার উপদ্রব বেড়েছে। তাই এখানে সভা করার প্রয়োজন ছিল।’’