নেশামুক্তি কেন্দ্রে রোগিণীকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ। শুধু তা-ই নয়, নির্যাতিতার আপত্তিকর ছবি-ভিডিয়ো তুলে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগও উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরের ওই কেন্দ্রের কর্ণধারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। শুধু তিনি একা নন, তাঁর কয়েক জন বন্ধু বা সহযোগীর বিরুদ্ধেও থানায় অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা।
নির্যাতিতার দাবি, মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই কারণে তাঁর বাবা-মা মাসআটেক আগে তাঁকে ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করান। কিন্তু সেখানে তাঁর কোনও ধরনের চিকিৎসা হয়নি বলে অভিযোগ নির্যাতিতার। তাঁর কথায়, ‘‘ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রে আমার কোনও চিকিৎসা হয়নি। বরং আমার উপর মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচার হত। আমাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচৈতন্য করে ধর্ষণ করত।’’ কর্ণধার ছাড়াও তাঁর কয়েক সহযোগীও ঘটনার সময় উপস্থিত থাকতেন বলে অভিযোগ নির্যাতিতার। তাঁরাই আপত্তিকর ছবি-ভিডিয়ো তুলে রাখতেন। পরে ব্ল্যাকমেল করতেন। কাউকে কিছু বললে খুন করার হুমকিও দেওয়া হত অভিযোগ নির্যাতিতার।
নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মানসিক অবসাদে ভুগতেন নির্যাতিতা, দাবি পরিবারের। অবশেষে সোমবার রাতে স্থানীয় এক আইনজীবীর সহায়তায় দত্তপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন নির্যাতিতা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই অভিযুক্ত কর্ণধারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন:
নির্যাতিতার আরও অভিযোগ, ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রে থাকা একাধিক আবাসিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হত। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। নির্যাতিতার আইনজীবী গৌরব মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা সব সময়েই ওই তরুণীর পাশে থাকব। আবার যখন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করানো হবে, তখনও জামিনের বিরোধিতা করব। নির্যাতিতাকে বিচার পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাব।’’