একাধিক অনিয়মের অভিযোগে বিদ্ধ রাজ্যের বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক। স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তের ভিত্তিতে একটি ব্লাড ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল হয়েছিল। পাড়ায় পাড়ায় রক্তদান শিবির করতে নিষেধ করা হয়েছিল ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্ককে। শেষপর্যন্ত অবশ্য আলোচনার ভিত্তিতে সব পদক্ষেপই প্রত্যাহার করা হয়েছে। ‘অনিয়ম’ শুধরে নিতে সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিকে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ব্লাড ব্যাঙ্কের সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। সামনে উৎসবের মরসুম। তাই সরকার অবস্থান শিথিল করেছে। কিন্তু সরকারের মহানুভবতাকে যেন দুর্বলতা বলে ভাবা না হয়। ভবিষ্যতে একই ঘটনা ঘটলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিক ভাবে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির যে দুর্নীতির কথা প্রশাসন বলেছিল, সেটা শিউরে ওঠার মতো। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই দাবি করেছিলেন, কেলেঙ্কারির অঙ্ক একশো কোটি ছুঁতে পারে। কী সেই কেলেঙ্কারি, তার শিকড় কতটা গভীরে? খোঁজ নিল আনন্দবাজার ডট কম।
ঘটনার শুরু গত ২৩ জুন। দক্ষিণ কলকাতার একটি ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের স্টক মেলাতে গিয়ে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছ’মাসে ভিন্রাজ্যের বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে প্রায় ৬ কোটি টাকার লোহিতকণিকা এবং প্লাজ়মা বিক্রি করেছে তারা। নিয়ম অনুযায়ী অন্য রাজ্যে রক্ত পাঠাতে হলে ন্যাশনাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলের অনুমতি লাগে। কিন্তু ওই ব্লাড ব্যাঙ্কটি সে সব কিছুই নেয়নি বলে অভিযোগ।
অন্য ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির কী অবস্থা, খোঁজ নিতে শুরু করে স্বাস্থ্য দফতর। এর পর হিসেবে গরমিল নজরে আসে দক্ষিণ কলকাতার আরও ব্লাড ব্যাঙ্কের। দেখা যায়, তারাও মোটা টাকার বিনিময়ে রক্ত বিক্রি করেছে উত্তরপ্রদেশ-বিহারে।
এ রাজ্যে বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের সংখ্যা ৭৪। তার মধ্যে ১২টির বেআইনি কাজকর্মের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি স্বাস্থ্যকর্তাদের। বাকিরা কেউ কেউ, কিছু কিছু অনিয়ম করেছে। তবে তেমন গুরুতর নয়।
আরও পড়ুন:
কোনও রাজ্যে বার্ষিক রক্তের চাহিদা কত হবে, তার একটা হিসেব আছে। ধরা হয়, রাজ্যের যা জনসংখ্যা তার এক শতাংশ ইউনিট রক্ত প্রতি বছর লাগবে।
পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা ১০ কোটি হলে বছরে রক্ত লাগে ১০ লক্ষ ইউনিট। ৭৪টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের পাশাপাশি ৮৯টি সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে এই রক্ত সরবরাহ করা হয়। রক্ত আসে কোথা থেকে? গোটা বছর ধরেই গোটা রাজ্যে পাড়ায় পাড়ায় আয়োজিত হয় রক্তদান শিবির। সরকারি বা বেসরকারি কোনও ব্লাড ব্যাঙ্কের সহযোগিতায়। তারাই রক্ত সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসেন রক্ত দিতে। গোটা প্রক্রিয়াটাই তাঁদের সদিচ্ছার উপরে নির্ভরশীল। স্বাস্থ্যকর্তাদের মতে, রক্ত সংগ্রহের এই ব্যবস্থাই আদর্শ। সচেতনতার ভিত্তিতে আয়োজিত শিবির থেকে যে রক্ত আসে, তাতে এইচআইভি বা অন্যান্য সংক্রমণ থাকে সবচেয়ে কম। এই ধরনের শিবিরে কোনও রকম আর্থিক লেনদেন বেআইনি। কিন্তু সেই আইনই লঙ্ঘিত হচ্ছে অনেক জায়গায়।
এই যে ব্লাড ব্যাঙ্কের কাজকর্ম খতিয়ে দেখা, তার সূত্রপাত খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আসা একটা অভিযোগ থেকে। বলা হয়, একটি শিবিরে রক্তদাতাদের পাখা উপহার দেওয়া হয়েছে। সেই ছবিও পাঠানো হয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। স্বাস্থ্যকর্তাদের বক্তব্য, সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের বদলে বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিকে দিয়ে রক্তদান শিবির পরিচালনা করানোর প্রবণতা বেশি। এর পিছনে উপহার বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করার কারণ আছে। যে বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কটি ওই শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ করেছিল, তাদের দফতরে অডিট করা হয়। তখনই প্রকাশ্যে আসে অনিয়মের ছবি।
স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের বক্তব্য, রক্তদানের ব্যাপারে এ রাজ্যের মানুষের সচেতনতা অন্য পড়শি রাজ্যের তুলনায় বেশি। এখানে রক্তদানের গুরুত্ব নিয়ে নিয়মিত প্রচার চালায় নানা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। গোটা বছর ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত হয় রক্তদান শিবির। যা রক্ত সংগ্রহ হয়, তা রাজ্যের চাহিদার থেকে বেশি। সেই রক্তই অসাধু উপায়ে ভিন্রাজ্যে বিক্রি করে কয়েকটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক।
রক্ত নানা আকারে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়। প্রথমত, সমস্ত উপাদান-সহ পুরো রক্ত, যাকে চিকিৎসা পরিভাষায় ‘হোল ব্লাড’ বলা হয়। দ্বিতীয়ত, উপাদান পৃথগীকরণের পরে আলাদা ভাবে লোহিতকণিকা (প্যাক্ড রেড ব্লাড সেল), প্লেটলেটস এবং প্লাজ়মা। রক্তের উপাদানগুলির মধ্যে লোহিতকণিকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। থ্যালাসেমিয়া-সহ বিভিন্ন ধরনের রোগে লোহিতকণিকা প্রয়োজন হয়। আবার প্লাজ়মার চাহিদা রয়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির মধ্যে। কারা, কী ভাবে রক্ত বা তার উপাদান ভিন্রাজ্যে পাঠাতে পারবেন এবং কারা তা নিতে পারবেন—সে ব্যাপারে সরকারি নির্দেশিকা রয়েছে। তাদের দামও নির্ধারণ করে দেয় সরকার।
কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আসার আগে প্লাজ়মা মূলত বিদেশে পাঠানো হত। এখন দেশীয় পাঁচটি সংস্থা প্লাজ়মা নিয়ে কাজ করছে। গুণগত মানের উপরে ভিত্তি করে বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি থেকে প্লাজ়মা কেনে তারা। তেলঙ্গানার একটি সংস্থা উদ্বৃত্ত প্লাজ়মা কেনার ব্যাপারে টেন্ডারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে চুক্তি করেছে। দর লিটারপিছু ৪১১৬ টাকা। একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা যাচ্ছে, তারা লিটারপিছু ৪৪০০ টাকা দরে ভিন্রাজ্যে প্লাজ়মা পাঠায়।
স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেলের এক প্রাক্তন কর্তার মতে, এ রাজ্যে সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি বছরে ১১ থেকে ১২ লক্ষ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করে। বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি করে ৭ থেকে ৮ লক্ষ ইউনিট। সব মিলিয়ে রাজ্যের চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ। উদ্বৃত্ত প্লাজ়মা পাঠানো হয় ভিন্রাজ্যে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের দাবি, এ জন্য আগাম অনুমতি নিতে হয় ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিকে। কিন্তু তদন্তে দেখা যাচ্ছে, সরকারকে না-জানিয়েই প্লাজ়মা পাঠানো হয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য দফতরের খাতায় অভিযুক্ত এক বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তার দাবি, ‘‘উদ্বৃত্ত প্লাজমা ব্যবসায়িক কারণে অন্য রাজ্যে পাঠানোর আগে সরকারি ভাবে ‘নো অবজেকশন’ নেওয়ার কোনও সুস্পষ্ট নির্দেশিকা নেই।’’ যে দাবি মানতে স্বাস্থ্যকর্তারা নারাজ।
অডিটের সময় পাওয়া নথি থেকে দেখা যাচ্ছে, এক একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক কোটি কোটি টাকার প্লাজ়মা ভিন্রাজ্যে পাঠিয়েছে। মধ্য কলকাতার এক বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ৯ হাজার মতো ইউনিট প্লাজ়মা এ রাজ্যের রোগীদের দেওয়া হয়েছে। অন্যত্র পাঠানো হয়েছে ১৬ থেকে ১৭ হাজার ইউনিট প্লাজ়মা। কলকাতার অন্য একটি ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে ৬ মাসে তিন কোটি টাকার বেশি প্লাজ়মা গিয়েছে অন্যত্র। সরকারি নিয়ম না-মেনেই এই কাজ করা হয়েছে, অভিযোগ স্বাস্থ্যকর্তাদের।
প্লাজ়মা বেচে যদি মোটা কড়ি ঘরে আসে তা হলে রক্তদান শিবিরের উপরে যে নজর পড়বে, সেটা স্বাভাবিক। রক্ত পাওয়ার সেটাই তো প্রধান উৎস। সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের এক কর্তার কথায়, ‘‘সরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে যে রক্তদান শিবির হয়, সেখানে রক্তদাতাপিছু ‘রিফ্রেশমেন্ট’ বাবদ খরচ ১০০ টাকা। এ ছাড়াও শিবির আয়োজনের খরচ হিসেবে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আয়োজকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়।’’ অন্য দিকে, এক একটি রক্তদান শিবিরে রক্তদাতাদের তাঁরা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার ‘রিফ্রেশমেন্ট’ দেন বলে জানাচ্ছেন বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের এক কর্তা। তাঁর হিসেবে, যাতায়াত, রক্ত সংরক্ষণ ইত্যাদি মিলিয়ে ৫০ জনের জন্য শিবিরে ৫০ হাজার টাকা খরচ পড়ে।
কিন্তু আড়ালে খরচ আরও আছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, রক্তদাতাদের প্রলুব্ধ করতে প্রেশার কুকার, ফ্যান, স্মার্ট ওয়াচ উপহার দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। কোথাও কোথাও আবার নজরদারি এড়াতে রক্তদাতাদের কুপন দেওয়া হয়েছে, যা দেখিয়ে পরে তাঁরা উপহার সংগ্রহ করতে পারবেন। রাজ্যে সারা বছর যত রক্তদান শিবির হয়, তার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই করে বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি। যে শিবিরে যত ভাল উপহারের হাতছানি, সেই শিবিরে রক্ত সংগ্রহের হার তত ভাল। রক্ত নিতে রাজ্যের দূরতম প্রান্তে পাড়ি দিতেও পিছপা হয় না বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি। যারা যত বেশি উপহার দেয়, তারা তত বেশি শিবির করার ডাক পায়।
নিয়ম ভেঙে উপহার দেওয়া শুধু নয়, নিয়ম ভেঙে রক্ত দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। দুর্গাপুরের রক্তদান শিবিরে ১১ ও ১৩ বছর বয়সিদের কাছ থেকে রক্ত নেওয়ায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়স হলে রক্ত নেওয়া যায় না। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ প্রতি ডেসিলিটারে ১২.৫ গ্রাম বা তার বেশি হতেই হবে। ওজন হতে হবে ন্যূনতম ৪৫ কেজি। সে ক্ষেত্রে ৩৫০ মিলিলিটার রক্ত নেওয়া হবে। ওজন ৫৫ কেজি বা তার বেশি হলে রক্ত নেওয়া যাবে সর্বোচ্চ ৪৫০ মিলিলিটার।
তদন্ত বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই এই নির্দেশিকা মানা হয়নি। ৩৫০ মিলিলিটারের পাউচে ৫০০ মিলিলিটার পর্যন্ত রক্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, একটি পাউচে কতটা রক্ত ধরবে সেই হিসেব করে রক্ত জমাট না-বাঁধার রাসায়নিক দেওয়া থাকে। বাড়তি রক্ত নিলে গুণমানের উপরে প্রভাব পড়তে পারে। অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রক্ত সংরক্ষণ করার বিষয়টিও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। প্রতিটি রক্তদান শিবিরে এমবিবিএস চিকিৎসক রাখা বাধ্যতামূলক হলেও ডাক্তারি পড়ুয়াদের দিয়ে কাজ চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন কাজ না-করার মুচলেকা আদায় করা হয়েছে চিহ্নিত পড়ুয়াদের কাছ থেকে। গাফিলতি ধরা পড়েছে বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের পরিকাঠামোতেও।
রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তাদের একাংশের মতে, রক্তদানে এই ব্যবসা এবং অনিয়ম বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। এ জন্য ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের ঢিলেঢালা মনোভাবকেই দুষছেন স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেলের ওই প্রাক্তন কর্তা। তাঁর অভিযোগ, ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে ড্রাগ কন্ট্রোল এবং এসবিটিসি-র যৌথ পরিদর্শনের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হত না। গোটাটাই নিয়ন্ত্রণ করত ড্রাগ কন্ট্রোল। তারা নিয়মিত পরিদর্শন করলে আগে কেন এই অনিয়ম ধরা পড়ল না কেন, তাঁর প্রশ্ন।
আপাতত অনিয়মে যুক্ত বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিকে সতর্ক করেই ছাড় দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু রক্ত নিয়ে ব্যবসার অভিযোগ রক্তদানে অনীহা আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমাজকর্মীরা। দীর্ঘ দিন ধরে রক্তদানের সঙ্গে জড়িত ডি আশীষের কথায়, “আমরা রক্তদানের জন্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করি, রক্তদানের গুরুত্ব এবং উপকারিতা বোঝাই। কিন্তু রক্ত নিয়ে অনিয়ম প্রকাশ্যে আসার পর অনেকে প্রশ্ন করছেন— রক্ত তো পাচার হয়ে যাবে, তা হলে দান করে কী লাভ।’’
এই উৎকণ্ঠা দূর করার ভার কে নেবে?