টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্তদান করানোর অভিযোগে দুর্গাপুরে তিন জন গ্রেফতার।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম অমিতপ্রসাদ যাদব, দেবপ্রিয় চক্রবর্তী এবং মহম্মদ হাবিবুর। এঁদের মধ্যে হাবিবুরের বাড়ি মালদহের মোথাবাড়িতে। দুর্গাপুরের বিধাননগরে বেসরকারি হাসপাতালে তিনি একটি প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রস্তাবটি ছিল হাসপাতালে রক্তের প্রয়োজন হলে তিনি জোগাড় করে দেবেন। তার পরেই নাবালক পড়ুয়াদের কাউকে টাকার লোভ, কাউকে ‘রক্তদান মহৎ কাজ’— এই ধরনের কথা বলে হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। একাধিক পড়ুয়ার অভিযোগ, ওই ব্যক্তি তাদের বলেছেন, তারা রক্তদান করলে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচবে অনেক মানুষ। তদন্তকারীদের দাবি, এই রকম সহানুভূতির কথা বলে ১৪-১৫ বছরের নাবালকদের দু’-তিন মাস পরপর রক্তদান করানোর অভিযোগ রয়েছে।
আবার ধৃত মহম্মদ হাবিবুরকেও ওই চক্রের বড় মাথা বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি ওই হাসপাতালের সামনে একটি হোটেলে কাজ করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর আত্মীয়েরা খাওয়া-দাওয়া করতে গেলে তাঁদের সঙ্গে আলাপ জমাতেন। কারও রক্ত প্রয়োজন কি না, কৌশলে জেনে নিয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতেন হাবিবুর, দেবপ্রিয়দের। তার পর ওই চক্র নাবালক পড়ুয়াদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালে নিয়ে রক্তদান করাত।
পুলিশের সন্দেহ, শুধু এই তিন জনই নন, দুর্গাপুরকাণ্ডে আরও অনেকে জড়িয়ে রয়েছেন। সকলের খোঁজ পেতে ধৃতদের জেরার প্রয়োজন। এ জন্য ধৃতদের পাঁচ দিনের জন্য হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন করছে তারা।
হাসপাতালের সামনে যে হোটেলের কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন, সেই হোটেলমালিকের দাবি, তিনি এ নিয়ে বিন্দুবিসর্গ জানেন না। যদিও পুলিশ বলছে, কেউ সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। তদন্ত চলবে। অন্য দিকে, রক্তদাতা নাবালকদের পরিবারগুলো জানিয়েছে, এমন অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকে যেন ধরা পড়ে। এবং তাদের যেন উপযুক্ত শাস্তি হয়।