পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল এখনও বেপাত্তা। তবে তাঁর ‘বেআইনি’ সম্পত্তির খোঁজে নানা জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। শুধু বীরভূম নয়, রাজ্যের অন্য প্রান্তে টুলুর আত্মীয়দের বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই সূত্র ধরে সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রামে টুলুর মামাশ্বশুর মোজাম্মেল হকের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। শেষে তাঁর পুত্র মুর্শিদ কামাল ওরফে রিপন মণ্ডলকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা।
এক সময় টুলুর ম্যানেজার হিসাবে কাজ করতেন রিপন। পাথর খাদানে ডিসিআর কাটার কাজের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেই কাজে কোনও জাল ডিসিআর ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
সম্প্রতি বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। ১৫ কেজি সোনাও উদ্ধার করা হয়। তার পর থেকেই তদন্তকারীদের নজরে টুলু। তদন্তকারী সূত্রে খবর, টুলু তাঁর সম্পত্তি আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠদের নামে করে রেখেছেন। সেই সব সম্পত্তির খোঁজে টুলুর আত্মীয়েরা তদন্তকারীদের আতশকাচের নীচে। তদন্তে উঠে এসেছিল রিপনের নাম। সেই সূত্রেই সোমবারের তল্লাশি।
ধৃত রিপন মণ্ডল। —ফাইল চিত্র।
মোজাম্মেলের বাড়ি আউশগ্রামের ভেদিয়ার কাঁটাটিকুরি গ্রামে। বীরভূমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর), বোলপুরের এসডিপিও, মহম্মদবাজার থানার পুলিশ এবং শান্তিনিকেতন থানার আধিকারিকেরা প্রথমে হানা দেয় সেই বাড়িতে। পরে মোজাম্মেলের তুতো ভাই কাজল মণ্ডলের বাড়িতেও যায় পুলিশ। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওই গ্রামে টুলুর আত্মীয়দের বাড়িতে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। মাটি খুঁড়েও দেখেন তাঁরা। আলমারি, ট্রাঙ্ক, স্যুটকেস থেকে শুরু করে গোয়ালঘর পর্যন্ত তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখেন তদন্তকারীরা। ডাকা হয় বম্ব স্কোয়াডকেও।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘ তল্লাশির শেষে রিপনের কাছ থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, ‘মণ্ডলের ডায়েরি’ নামে পরিচিত ওই খাতায় পাথর খাদান সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। এ ছাড়াও রিপনের ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ এবং প্রিন্টার নিয়ে যায় পুলিশ। ওই সমস্ত নথি এবং ডিভাইস থেকে টুলুর কথিত পাথর কারবারের কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ রিপনের স্ত্রী আমিনা বেগমকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। পরিবারের মাসিক খরচ কী ভাবে চলত, সেই বিষয়েও তাঁকে নানা প্রশ্ন করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
মোজাম্মেলের দাবি, তাঁদের বাড়ি থেকে কোনও টাকা-পয়সা বা গয়না উদ্ধার হয়নি। রিপনের মা সামসুন নেহার বেগম বলেন, “আমার ছেলে টুলুর কাছে কাজ করত। ওরা আত্মীয় হয়। আমাদের কাছে কোনও বেআইনি জিনিস নেই।” তবে তল্লাশির সময় রিপনকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্য দিকে, টুলুর আর এক আত্মীয় কাজলের বাড়িতে খোঁজ চালায় পুলিশ। তাঁর গাড়ির চাবি খুঁজে না-পাওয়ায় কাচ ভেঙে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা।