Advertisement
E-Paper

চার বছর পর মুম্বই থেকে গ্রেফতার ভাদু শেখ খুনে অন্যতম অভিযুক্ত মসাদ! বর্ধমান আদালতে চলছে বগটুই গণহত্যার মামলাও

সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাদুর খুনের পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন মসাদ। পরে রামপুরহাট আদালত তাঁকে ঘোষিত অপরাধী ঘোষণা করে। শুক্রবার মুম্বইয়ের আদালতে তাঁকে পেশ করা হলে তদন্তের প্রয়োজনে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসার জন্য ট্রানজ়িট রিমান্ডের আবেদন জানায় সিবিআই। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ অগস্ট ২০২৬ ০০:১৫

— প্রতীকী চিত্র।

প্রায় চার বছর পর বীরভূমের তৃণমূল নেতা তথা বড়শাল পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখ খুনের মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত মসাদ শেখকে মুম্বই থেকে গ্রেফতার করল সিবিআই। শুক্রবার মুম্বইয়ের ডোংরি থানার ওয়াড়িবন্দরের টোব্যাকো গলি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের বাড়ি বীরভূমের রামপুরহাট থানার বগটুই গ্রামে।

সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাদুর খুনের পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন মসাদ। পরে রামপুরহাট আদালত তাঁকে ঘোষিত অপরাধী ঘোষণা করে। শুক্রবার মুম্বইয়ের আদালতে তাঁকে পেশ করা হলে তদন্তের প্রয়োজনে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসার জন্য ট্রানজ়িট রিমান্ডের আবেদন জানায় সিবিআই। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।

শনিবার মসাদকে বর্ধমানের তৃতীয় জেলা ও দায়রা আদালতে পেশ করার কথা ছিল। তবে ছুটির দিন থাকায় দায়রা আদালতের পরিবর্তে বর্ধমানের সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় সিজেএম। সোমবার মসাদকে বর্ধমানের তৃতীয় জেলা ও দায়রা আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২২ সালের ২১ মার্চ বগটুই মোড়ের কাছে একটি চায়ের দোকানের সামনে মোবাইলে কথা বলছিলেন ভাদু। সেই সময় বাইকে চেপে এসে কয়েকজন তাঁর উপর হামলা চালায়। বোমা ও গুলির আঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি। রামপুরহাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় ভাদুর ভাই বিকির আলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

ভাদুর খুনের পরেই অশান্ত হয়ে ওঠে বগটুই গ্রাম। বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় শিশু ও মহিলা-সহ ১০ জনের মৃত্যু হয়। ভাদুর খুন এবং বগটুই গণহত্যা— দুই ঘটনারই তদন্ত প্রথমে সিটের হাতে যায়। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে দুই মামলার তদন্তভার নেয় সিবিআই।

ভাদু খুনের মামলায় ২০২২ সালের ২০ জুন পলাশ খান ওরফে ফইজল খান, সঞ্জু শেখ ওরফে নূর ইসলাম শেখ, সফি শেখ এবং মাহী শেখের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা করে খুন, বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনের ধারায় চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। পরে সোনা শেখ, ছোট লালন শেখ ওরফে কামরুল শেখের বিরুদ্ধে প্রথম অতিরিক্ত চার্জশিট দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নিউটন শেখ ওরফে আসামুল হক, মসাদ শেখ এবং শেরা শেখের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করে তদন্তকারী সংস্থা।

হাইকোর্টের নির্দেশে পরে মামলাটি রামপুরহাট আদালত থেকে বর্ধমান আদালতে স্থানান্তরিত হয়। ২০২৪ সালের ৬ জুন সাত জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আদালত। সেই সময় মসাদকে ঘোষিত অপরাধী ঘোষণা করা হয়েছিল।

অন্য দিকে, বগটুই গণহত্যার মামলাও বর্ধমানের চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে চলছে। ওই মামলায় ২৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই। তাঁদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ২২ জনকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। কয়েক মাস আগে কলকাতার মির্জ়া গালিব স্ট্রিট থেকে রোহন শেখ ওরফে কিসমত শেখকে গ্রেফতার করে সিবিআই। রোহন বগটুই কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত লালন শেখের ছেলে। সিবিআই হেফাজতে থাকাকালীন লালনের রহস্যমৃত্যু হয়।

সিবিআইয়ের চার্জশিটে নাম থাকা ২৩ জন এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন। মসাদের গ্রেফতারের পর বগটুই গণহত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের ধরপাকড়ের ক্ষেত্রেও তদন্তে আরও গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Bagtui CBI Investigation Murder Case

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy