জঙ্গি যোগের অভিযোগে ধৃত হামিম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার ও আদিত্য সিংহকে ফের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিলেন বর্ধমান জেলা আদালতের বিচারক। শুক্রবার বর্ধমান জেলা আদালতে তিন জনকে কড়া নিরাপত্তায় হাজির করানো হলে, বিচারক বিমলকান্তি বেরা তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তাঁদের ফের আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে।
এসটিএফ সূত্রে দাবি, ধৃতদের মধ্যে হামিমের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই-ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন জঙ্গি মডিউল ও হ্যান্ডলারদের যোগাযোগের বেশ কিছু তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এ দেশে অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনায় তাঁরা যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ। জঙ্গি গোষ্ঠীর হয়ে অর্থ ও অস্ত্র সংগ্রহের পাশাপাশি ভিআইপি অপহরণের পরিকল্পনাও ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে এসটিএফের দাবি।
ধৃত তিন জনের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা তিনটি মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ফোনের চ্যাট ও বিভিন্ন সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে একাধিক সূত্র পাওয়া গিয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য মুছে ফেলা হয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করছে এসটিএফ। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেই তথ্য উদ্ধার করা গেলে, তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে আশা তদন্তকারীদের।
আরও পড়ুন:
এসটিএফের হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার তিন জনকে বর্ধমান জেলা জজের আদালতে হাজির করানো হয়। তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি রিপোর্টও বন্ধ খামে আদালতে জমা দেয় এসটিএফ। শুক্রবার নতুন করে হেফাজতের আবেদন করা হয়নি। তবে মোবাইলের ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তার তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন হলে ধৃতদের ফের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে বলে আদালতে জানায় এসটিএফ।
হামিমের হয়ে আইনজীবী কমল দত্ত জামিনের আবেদন করেন। আদিত্যের হয়ে লিগ্যাল এইডের এক আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। অর্পিতার হয়ে কোনও আইনজীবী দাঁড়াননি। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনজীবী পাওয়ার জন্য জেলা বিচারকের কাছে আবেদন করেন অর্পিতা।
তিন জনের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের যোগ থাকার অভিযোগ এবং তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে জামিনের বিরোধিতা করেন এসটিএফের আইনজীবী অরিন্দম মুখোপাধ্যায়। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারক তিন জনকেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এসটিএফ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, হেফাজতে থাকাকালীন বর্ধমান, হাওড়া-সহ কয়েকটি জায়গায় ধৃতদের নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। যদিও সেই তল্লাশিতে উল্লেখযোগ্য কোনও তথ্য বা সামগ্রী উদ্ধার হয়নি। সূত্রের খবর, হেফাজতে থাকাকালীন দিল্লি পুলিশ ও এনআইএ-ও তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে। হামিমের বিষয়ে দিল্লি পুলিশও খোঁজখবর চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের নজরে এখন মূলত ধৃতদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট। সেই রিপোর্ট থেকে আইএসআই-ঘনিষ্ঠ মডিউল ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসে কি না, সে দিকেই তাকিয়ে এসটিএফ।