শ্রেণিকক্ষে চলছিল পড়াশুনো। সেই সময়ে শিক্ষকের চেয়ারে বসে ‘বিকশিত ভারত’ ইস্যুতে বক্তব্য পেশ করলেন বিজেপি নেতা। পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেন শিক্ষক—শিক্ষিকারা। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের ঘটনা বলে এমনই ছবি ও ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সমাজ মাধ্যমে। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। যদিও এই ছবি ও ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ভাতার ব্লকের বলগোনা বাজারের শুশুনদিঘি এইচপি উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘বিকশিত ভারত ভিশন ২০৪৭’ বিষয়ে বিদ্যালয়ে বক্তব্য রাখার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রের আহ্বায়ক সুব্রত গোস্বামীর বিরুদ্ধে।
ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, শ্রেণিকক্ষের একটি চেয়ারে বসে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য পেশ করছেন সুব্রত। তাঁর পাশে কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এক পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে ওই নেতা নিজে শিক্ষকের চেয়ারে বসে পড়ুয়াদের সামনে ‘বিকশিত ভারত’ ও ২০৪৭ সালের ভারতের রূপরেখা নিয়ে বক্তব্য পেশ করেন। যদিও এই ছবি ও ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
বিরোধীদের প্রশ্ন, একটি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিক দলের কোনও নেতা এ ভাবে বক্তব্য আদৌ পেশ করতে পারেন কি না। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দাঁড় করিয়ে রেখে রাজনৈতিক নেতার চেয়ারে বসার ঘটনাও শিক্ষাঙ্গণের শিষ্টাচার নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন:
এই প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা দীপঙ্কর দে বলেন, ‘‘ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠন ক্ষতিগ্রস্ত হল, তার দায় নেবে কে? শিক্ষার জগতে দখলদারি শুরু হয়েছে।” তৃণমূল নেতা তথা জেলাপরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি দেবু টুডুর কটাক্ষ, ‘‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে কেউ কি এমন ক্লাস নিতে পারেন? বাংলার মানুষ হিসাবে লজ্জা লাগছে। এরা ভারতীয় জঞ্জাল পার্টি।’’
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের জেলা মুখপাত্র শান্তরূপ দে বলেন, ‘‘ঘটনাটিকে যে ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়।’’ তাঁর দাবি, ক্লাস বন্ধ করা হয়নি। শিক্ষকদের অনুমতিতেই ওই কর্মসূচি হয়েছিল। কাউকে ছোট করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না বলেই দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘বিকশিত ভারত’ একটি জনমুখী কর্মসূচি। যাঁকে নিয়ে বিতর্ক সেই নেতার দাবি, ‘‘আমি স্কুলে মাস্টারমশাইয়ের চেয়ারে বসতে চাইনি। শিক্ষকেরাই আমাকে জোর করে চেয়ারে বসিয়েছেন। ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করিনি।”