আবার তোলাবাজির অভিযোগে নাম জড়াল শাসকদলের নেতাদের। এ বার ঘটনাস্থল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া।
অভিযোগ, বিএলআরও অফিসে কাজ করতে গেলে ৫ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়া হয় সুজন ঘোষ নামে এক যুবককে কাছে। দাবি মতো টাকা না-পেয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনই অভিযোগে কাটোয়ায় বিজেপির নগর মণ্ডল সভাপতি সুমন দেবনাথ-সহ চার জনের নামে এফআইআর দায়ের হয়েছে থানায়।
কাটোয়ার পানুহাটের আদর্শপল্লির বাসিন্দা সুজনের বয়ান অনুযায়ী, তিনি কাটোয়ায় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের অফিসের কাছে একটি দোকান চালানোর পাশাপাশি অনলাইনে বিভিন্ন কাজকর্ম করেন। তা ছাড়া ভূমি অফিসে মুহুরীর কাজও করেন। বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক জন ব্যক্তি লোহার রড, শাবল ইত্যাদি নিয়ে তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁক হাঁকডাক করেন। তিনি বেরিয়ে এলে তাঁকে বলা হয়, এলাকায় থাকতে গেলে এবং বিএলআরও অফিসে মুহুরীর কাজ করতে গেলে টাকা দিতে হবে। কত সেটা? বলা হয়, পাঁচ লক্ষ টাকা!
সুজনের অভিযোগ, বিজেপির কাটোয়া নগর মণ্ডল কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ অধিকারী ওরফে গুপি, বিজেপি কর্মী অতনু সাহা, ধীরাজ দাস-সহ কয়েক জন তাঁকে হুমকি দেন। এ-ও বলা হয়, টাকা না দিলে খুন করে দেহ ‘গুম করে’ দেওয়া হবে।
প্রাণভয়ে প্রথমে ২০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন বলে দাবি ওই ব্যক্তির। তবে বাকি টাকা দিতে তিনি অস্বীকার করেন। তখন তাঁকে লোহার রড, পিস্তলের বাট-সহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টারও অভিযোগ করেছেন সুজন। এই মর্মে কাটোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। এ বার বিজেপির নগর সভাপতি সুমন দেবনাথ-সহ চারজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।
শনিবার সকালে কাটোয়ার আদর্শপল্লিতে সুজনের বাড়িতেও যায় কাটোয়া থানার পুলিশ। অভিযোগকারীর কথায়, “ঘটনার বিবরণ জানতে পুলিশ আমার বাড়িতে এসেছিল। তদন্তের স্বার্থে আমি পুলিশকে সহযোগিতা করেছি। আইনের ওপর আমার ভরসা আছে।’’
অন্য দিকে, তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিজেপির কাটোয়া নগর মণ্ডল সভাপতি। শনিবার এ নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকও করেন তিনি। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ওই বিজেপি নেতা বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে দলীয় পদ ছে়ড়ে দেবেন। তাঁর এ-ও দাবি, রাজনৈতিক চক্রান্ত করে এফআইআর হয়েছে। এর পিছনে রয়েছে ৪ মে-র পর বিজেপিতে যোগ দেওয়া কয়েক জন। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।