টাকা ধার নিয়ে তা না ফেরত দেওয়ার অভিযোগে বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর প্রাক্তন পিএ সায়ন্তন সান্যালকে ফের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল বর্ধমানের সিজেএম আদালত। দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বুধবার তাঁকে ফের আদালতে হাজির করানো হয়। টাকা উদ্ধারের তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে আরও সাত দিন নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। সেই আবেদনের ভিত্তিতে তিনদিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল আদলত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী বিশ্বরূপ সাহার বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার সেহারাবাজার এলাকায়। পেশায় তিনি রেলের ঠিকাদার। ঠিকাদারি কাজের সূত্রেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় সায়ন্তনের। তিনিও একই পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে দু’জনের মধ্যে প্রায়শই আর্থিক লেনদেন চলত। মাঝেমধ্যেই বিশ্বরূপের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন সায়ন্তন। পরে সেই টাকা ফেরতও দিতেন। এই ভাবেই চলত লেনদেন। কিন্তু, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত কয়েক দফায় বিশ্বরূপের কাছ থেকে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা ধার নেন সায়ন্তন। পরে তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বিশ্বরূপকে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। বাকি ১৯ লক্ষ টাকা পরে মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
কিন্তু বিশ্বরূপের অভিযোগ, চলতি বছরের ১৭ মার্চ সায়ন্তন তাঁকে এসএমএস করে জানান, তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে বিশ্বরূপের অ্যাকাউন্টে ৫ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা বিশ্বরূপের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি। এরপর বারবার সায়ন্তনের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইলে নানা অছিলায় টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন তিনি। একসময় বিশ্বরূপের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করেন দেন তিনি। অবশেষে টাকা ফেরত না পেয়ে বর্ধমানের সিজেএম আদালতের দ্বারস্থ হন বিশ্বরূপ। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তের জন্য বর্ধমান থানার আইসিকে নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ।
পুলিশের তরফ থেকে জানানে হয়েছে সোমবার ভোরে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল থানার অন্তর্গত শ্যামনগর ব্যানার্জিপাড়া রোডের একটি বাড়ি থেকে সায়ন্তনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁকে আদালতে হাজির করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। বুধবার সেই হেফাজতের মেয়াদ শেষ হলে ফের আদালতে হাজির করানো হয় তাঁকে। টাকা উদ্ধারের স্বার্থে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। তার ভিত্তিতে ধৃতকে আরও তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।