Advertisement
E-Paper

বর্ধমানে চার বছরের শিশুমৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার আরও এক চিকিৎসক! অ্যানাস্থেটিস্টের ভূমিকা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ

গত ২ সেপ্টেম্বর ওই নার্সিংহোমে চার বছরের শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনার পরেই শিশুটির বাবা জয়ন্ত রায় বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। স্বাস্থ্য দফতরেও অভিযোগ জানান তিনি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০০:০০
ধৃত অ্যানাস্থেটিস্ট বনজকুমার দে।

ধৃত অ্যানাস্থেটিস্ট বনজকুমার দে। — নিজস্ব চিত্র।

বর্ধমানের ১০৮ শিবমন্দিরের কাছে একটি নার্সিংহোমে চার বছরের শিশুমৃত্যুর ঘটনায় এ বার গ্রেফতার করা হল আরও এক চিকিৎসককে। সোমবার সন্ধ্যায় বোলপুরের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সংশ্লিষ্ট অ্যানাস্থেটিস্ট বনজকুমার দে-কে গ্রেফতার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। এই ঘটনায় এর আগে ‘ভুয়ো’ চিকিৎসক শেখ সইদুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শিশুমৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বনজের বাড়ি বর্ধমানের খোসবাগান এলাকায়। তবে এই ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ। বেশ কিছু দিন ধরেই পুলিশ তাঁর খোঁজ করছিল। শেষ পর্যন্ত মোবাইল ফোনের টাওয়ারের অবস্থান অনুসরণ করে বনজের অবস্থান চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই সোমবার সন্ধ্যায় বোলপুরের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর ওই নার্সিংহোমে চার বছরের শিশুটির মৃত্যু হয়। ঘটনার পরেই শিশুটির বাবা জয়ন্ত রায় বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। স্বাস্থ্য দফতরেও অভিযোগ জানান তিনি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য দফতরের তরফেও একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়। সেই কমিটির তদন্তে হাসপাতালে বিস্তর অসঙ্গতি এবং পরিকাঠামোগত ত্রুটি উঠে আসে। ওই রিপোর্টে ভুল চিকিৎসার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ওই নার্সিংহোমের চিকিৎসা সংক্রান্ত সব কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার পরেই তদন্তে আরও তৎপরতা বাড়ায় পুলিশ। চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার পিছনে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। এর আগে এই ঘটনায় সইদুলকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি ‘ভুয়ো’ চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছিলেন। তদন্ত এগোতে থাকলে ওই নার্সিংহোমে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত অ্যানাস্থেটিস্টের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তার পর থেকেই বনজের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ।

চার বছরের শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গ্রেফতার হওয়া অ্যানাস্থেটিস্টের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Bardhaman

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy