খাবার ব্যাপারে খুব নিয়ম মেনে চলে সে। প্রতিদিন সকাল ১১টা বাজলেই একবার ঢুঁ মারে বর্ধমান শহরের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। কিন্তু আজ এত ভিড় কেন! খাবারই বা খাবে কী ভাবে? গেট তো বন্ধ। মেজাজ গেল বিগড়ে। ‘গোমাতা’ শুরু করল ছোটাছুটি। তাই দেখে আতঙ্কে দৌড় দিলেন বিজেপি নেত্রী থেকে স্থানীয়দের কয়েক জন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফরের আগে খানিক ক্ষণের জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে গেল মন্দির চত্বরে।
মুখ্যমন্ত্রী পুজো দিতে আসবেন জেনে সকাল থেকে নানা প্রস্তুতি চলছিল সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। শুক্রবার ভোগের আয়োজনে বিশেষ পদ করা হয়। মন্দিরের গেটে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দলের তরফে দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি স্মৃতিকণা বসু। আচমকা ছন্দপতন হল কালো রঙের একটু গরুর উপস্থিতি ঘিরে। সকলকে যখন মন্দিরে প্রবেশ করতে গেলে কড়া পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে, তখন ‘গোমাতা’ সেই নিয়ম মানতে নারাজ। গেট বন্ধ দেখে সে এ দিক-ও দিক ছোটাছুটি শুরু করে। তার ভয়ে বিজেপি নেত্রী থেকে উপস্থিত অনেকেই দৌড়় দেন।
সকালে মন্দিরে প্রবেশ করতে গিয়ে নিরাপত্তার কড়াকড়ির মুখে পড়েন স্মৃতিকণা নিজেও। প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয় তাঁকে। সেই সময় মন্দিরের প্রবেশপথে চলছিল কড়া নজরদারি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, ঠিক তখনই একটি কালো রঙের গরু তেড়ে আসে। বিজেপি নেত্রী উপস্থিত সকলেই ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে পুলিশকর্মীরা গরুটিকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়েরা বলছেন, প্রতিদিনই সকাল ১১টা নাগাদ খাবারের সন্ধানে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ঢোকে গরুটি। শুক্রবারও তার অন্যথা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে যখন মন্দিরে নিরাপত্তার কড়াকড়ি তুঙ্গে, তখনও সে তার রোজকার নিয়ম মেনে গেটের সামনে উপস্থিত হয়। কিন্তু গেট বন্ধ দেখেই রেগে যায় সে। জেলা বিজেপির মুখপাত্র শান্তিরূপ দে হাসতে হাসতে বলেন, ‘‘গরু তো কোনও ক্ষতি করেনি। খাবার খেতে হাজির হয়েছিল। কারও কিছু হয়নি।’’