Advertisement
E-Paper

ধর্মান্তরণের অভিযোগে প্রার্থনাসভায় ভাঙচুর, কান ধরিয়ে ওঠবোস! বর্ধমানে শোরগোল, ঘটনার নিন্দা করল বিজেপি

পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত সংগঠনের লোকেরা। বজরং দলের দাবি, ‘‘এলাকার গরিব মানুষের আর্থিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রার্থনার নামে সনাতনীদের ধর্মান্তরণ করা হচ্ছে।’’

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:১০
Bardhaman Chaos

(বাঁ দিকে) কান ধরিয়ে ওঠবস করানো হচ্ছে। (ডান দিকে) শাসানি ‘আক্রমণকারী’র। —নিজস্ব চিত্র।

ধর্মান্তরণের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পূর্ব বর্ধমানের বিজয়রাম নেড়োদিঘি এলাকায়। প্রার্থনাস্থলে হামলা, প্রার্থনাকারীদের মারধর, কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর অভিযোগে নাম জড়াল শাসকদলের। আক্রান্তেরা ধর্মান্তরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিজেপি এবং বজরং দলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে তাঁদের সংগঠন। পাল্টা অভিযোগ করেছে দক্ষিণপন্থী একটি সংগঠন। তবে শাসকদল এই ঘটনার সঙ্গে দূরত্ব রচনা করেছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার পূর্ব বর্ধমানের একটি ধর্মীয় প্রার্থনাস্থলে গিয়ে হামলা হয়। ভাঙচুর চলে ভবনটিতেও। অভিযোগ, প্রার্থনাকারীদের রাস্তায় নামিয়ে নিয়ে গিয়ে পেটানো হয়। কয়েক জনকে কান ধরিয়ে ওঠবস করানো হয়েছে। ছাড় পাননি মহিলারাও। ঘটনার বিবরণ দিয়ে বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ‘অঙ্কুর নারুলা মিনিস্ট্রিজ’-এর বর্ধমান শাখা। সংগঠনের তরফে ঋতম দে পুলিশকে জানিয়েছেন, দুপুরে বিজয়রাম নেড়োদিঘি এলাকার গোপাল ভবনে প্রার্থনা চলছিল। সেই সময় ওই এলাকার কয়েক জন বিজেপি, আরএসএস এবং বজরং দলের লোক গিয়ে হামলা চালান। তাঁরা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে দিতে অশান্তির সৃষ্টি করেন। সভা ভন্ডুল করতে গিয়ে আসবাবপত্র ভাঙেন। প্রার্থনাকারীদের শারীরিক এবং মানসিক হেনস্থা করেছেন। প্রতিবাদ করলে জোটে মারধর। সঙ্গীতা দাস, চন্দ্রা সাউ প্রমুখের দাবি, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েক জনকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। অভিযোগ করা হয়, তাঁরা লোকজনকে ফুঁসলিয়ে অন্য ধর্মে দীক্ষিত করছেন। পাশাপাশি মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদি কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মহিলারা। ঋতমের কথায়, ‘‘হামলাকারীরা প্রার্থনাসভায় ঢুকে বলতে থাকে আমরা বিদেশ থেকে আর্থিক সাহায্য নিই। ধর্মান্তরণ করি। এই ধরনের কাজ বন্ধ করতে হবে। আমরা বলি, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা বলা হচ্ছে। তখন আমাদের মারধর করা হয়। ধর্মীয় আচরণ পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে।’’

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বজরং দলের সদস্য ইন্দ্রনীল সাঁই। তাঁর দাবি, ‘‘এলাকার গরিব মানুষের আর্থিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রার্থনার নামে সনাতনীদের ধর্মান্তরণ করা হচ্ছে। টাকা বা বিভিন্ন জিনিসের প্রলোভন দেখিয়ে এই কাজ হচ্ছিল। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে প্রতিবাদ করেছি।’’

তবে শাসকদলর অবস্থান ভিন্ন। বিজেপির জেলা মুখপাত্র শান্তরূপ দে বলেন, “এই ধরনের ঘটনাকে বিজেপি সমর্থন করে না। যদি কোনও অভিযোগ থাকে তার জন্য পুলিশ আছে। দেশের আইন আছে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারেন না। প্রার্থনাস্থলে ঢুকে এই ভাবে হামলা চালানো ঠিক নয়। যদি জোর করে সনাতনীদের ধর্মান্তরণ করা হয়ে থাকে, তার জন্যও পুলিশ রয়েছে। আইনের দ্বারস্থ হন। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক নয়।’’

Bardhaman Police case

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy