তিন বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত যুবকের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানার নির্দেশ দিল বর্ধমানের পকসো আদালত। ধর্ষণের ঘটনার দীর্ঘ ১৪ বছর পরে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন বিচারক দেবশ্রী হালদার।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত যুবকের নাম শিবনাথ হেমব্রম। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও ছ’মাস সংশোধনাগারে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিচারাধীন অবস্থায় অপরাধী যত দিন সংশোধনাগারে ছিল, সেই সময়কালকে শাস্তির মেয়াদ থেকে বাদ দেওয়া হবে। বিচারকের নির্দেশ, নির্যাতিতার পুনর্বাসনের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়ে নির্যাতিতার পরিবারকে বিস্তারিত জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালের ১৭ নভেম্বর ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। নির্যাতিতার বাড়ি খণ্ডঘোষ থানার বাদুলিয়া দেওয়ানদিঘিতে। নির্যাতনের ঘটনার কয়েক দিন আগে মায়ের সঙ্গে রায়না থানার গোয়ালপাড়ায় দাদুর বাড়িতে এসেছিল শিশুকন্যা। ঘটনার দিন বিকালে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে বাড়ির সামনেই খেলছিল সে। সেখান থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় ওই শিশু। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরেও তার খোঁজ না পেয়ে রায়না থানায় অভিযোগ জানান ওই শিশুর পরিবারের সদস্যেরা। অন্য দিকে, যারা খেলছিল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই শিশুর পরিবার জানতে পারে শিবনাথ নামের এক যুবক তাদের মেয়েকে কোলে করে মাঠের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। তবে শিবনাথের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করলে তার দেখা পাওয়া যায়নি। যুবকের পরিবারের সদস্যেরাও এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
১৯ নভেম্বর বেলা ১২টা নাগাদ এক বালিকার কাছ থেকে জানতে পারা যায়, শিবনাথ শিশুটিকে মাঠের দিকে নিয়ে যাওয়ার পরে তাকে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। তা দেখে ভয়ে পালিয়ে আসে বালিকা। তা জানতে পেরেই নিখোঁজ কন্যার পরিবারের লোকজন মাঠে গিয়ে দেখতে পান, অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছে তাঁদের মেয়ে। যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন। হচ্ছিল রক্তক্ষরণও। সেখান থেকে উদ্ধার করে শিশুকন্যাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে নির্যাতিতাকে স্থানান্তরিত করা হয় এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ওই দিন নাবালিকার মা বিস্তারিত জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। ২১ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে। নেওয়া হয় পুলিশ হেফাজতেও। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট পেশ করেন তদন্তকারী অফিসার রামপদ ঘোষ। ২০১৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর জামিন পেয়ে যায় অভিযুক্ত। ১৪ বছরের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা করে আদালত। প্রসঙ্গত, রায়না থানার শ্যামসুন্দর এলাকার গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা শিবনাথ যখন ধর্ষণ করে তখন তার বয়স ছিল ২০ বছর।
আদালতের রায় প্রসঙ্গে সরকারপক্ষের আইনজীবী শর্মিষ্ঠা সামন্ত বলেন, “১৪ বছর পরে নির্যাতিতা ও তার পরিবার সুবিচার পেল। এই ধরনের শাস্তি সমাজকে বার্তা দেবে।” নির্যাতিতার পুনর্বাসনের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশকেও স্বাগত জানিয়েছেন আইনজীবী।