Advertisement
E-Paper

কুড়ি দিনে ছোবল ১৪ জনকে, কেতুগ্রামের কোপায় সাপের আতঙ্কে ঘুম উড়েছে গ্রামবাসীর

সন্ধ্যা নামলেই কার্যত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে গ্রামের রাস্তা। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন সকলেই। সামান্য শব্দেও চমকে উঠছেন। সাপের ভয়ে আলো জ্বালিয়েই রাত কাটাতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:১৪

—প্রতীকী চিত্র।

কুড়ি দিনে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ১৪ জন। মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। কেউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, কেউ সুস্থ হয়ে ফিরেছেন বাড়িতে। সাপের কামড় এবং দু’জনের মৃত্যুর জেরে সন্ধ্যা নামলেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাস্তা। সাপের ভয়ে জেগে রাত কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী। পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম- ২ নম্বর ব্লকের বিলেশ্বর পঞ্চায়েতের কোপা গ্রাম জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

প্রান্তিক এই অঞ্চলে সাপের দেখাই যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত প্রায় এক মাস ধরে হঠাৎই বেড়ে গিয়েছে বিষধর সাপের আনাগোনা। দিনের বেলায় আতঙ্ক থাকেই, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক আরও বাড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ের শিকার হচ্ছেন অনেকেই।

১৭ সেপ্টেম্বর ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ের শিকার হন ৫৫ বছরের অশোক চট্টোপাধ্যায়। হাসপাতালে চিকিৎসা চললেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। ২৫ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় তাঁর। ওই দিন রাতেই বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকার সময়ে সাপে কামড়ায় ১৩ বছরের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আরাধ্যা মাজিকে। তাকে কেতুগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। পরের দিন সকালেই মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ২০ দিনে আরও ১২ জন সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে কেতুগ্রাম ও কাটোয়া হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অনেকে চিকিৎসাধীন।

সন্ধ্যা নামলেই কার্যত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে গ্রামের রাস্তা। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন সকলেই। সামান্য শব্দেও চমকে উঠছেন। সাপের ভয়ে আলো জ্বালিয়েই রাত কাটাতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।

অই আতঙ্কের পরিবেশের মধ্যেই সাপের উপদ্রব ঠেকাতে উদ্যোগী গ্রামবাসী। একজোট হয়ে ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কারের পাশাপাশি চলছে আবর্জনা সাফাই অভিযান। সাপের আনাগোনা কমাতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবিও জানানো হয়েছে।

কেতুগ্রাম-২ ব্লকের মহকুমা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক হৈমন্তিকা দাস জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি বন দফতরকেও জানানো হয়েছে। বিলেশ্বর পঞ্চায়েতের সদস্য বিপ্লব মণ্ডল বলেন, “কয়েক দিন ধরেই গ্রামে সাপের উপদ্রব বেড়েছে। ইতিমধ্যেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামের মানুষ। বিষয়টি বিডিওকে জানানো হয়েছে। পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকেও গ্রাম পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

সর্প বিশেষজ্ঞ ধীমান ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জমি থেকে লোকালয়ে চলে আসছে সাপ।’’ তাঁর দাবি, হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। তিনি মনে করেন, এর নেপথ্যে কারণ হতে পারে দু’টি- হয় হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি হচ্ছে বা চিকিৎসায় কোনও খামতি।

snake bite Snake ketugram

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy