পড়াশোনা নিয়ে বকাবকি করায় বাড়ি ছেড়েছিল নবম শ্রেণির দুই ছাত্রী। এর পর দুই সহপাঠী নানা জায়গা ঘুরেছে। ঘুরতে ঘুরতে সুদূর রাজস্থানে চলে গিয়েছিল তারা। মাসখানেক পর তাদের খোঁজ পেল বর্ধমান জিআরপি।
রেল পুলিশের একটি সূত্রে খবর, গত ১ জুলাই বর্ধমানের রামাশিস হিন্দি হাই স্কুলের পাঁচ ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার জন্য মেমারি স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে। বর্ধমান স্টেশনে নেমে তিন ছাত্রী স্কুলে গেলেও বাকি দু’জনকে স্কুলে দেখা যায়নি। দুই ছাত্রীর পরিবার অনেক ঘোরাঘুরি করেও তাদের খোঁজ পায়নি। শেষমেশ ১৬ জুলাই বর্ধমান থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে তারা। পুলিশের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তদন্ত শুরু করে জিআরপি-ও। স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা থেকে মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং শুরু করে তারা।
পরে জানা যায়, দুই ছাত্রী স্টেশনের শৌচাগারে গিয়ে স্কুলের ইউনিফর্ম বদলে সাধারণ পোশাক পরে। তার পর ফিরতি পথে আবার মেমারি চলে গিয়েছিল। সেখানে একটি দোকান থেকে ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ মোবাইল কেনে। তার পর ট্রেনে উঠে প্রথমে বিহার, সেখান থেকে রাজস্থান চলে যায়।
আরও পড়ুন:
শেষমেশ ৩১ জুলাই রাজস্থানের ফুলবাগ থেকে দুই কিশোরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। রবিবারই তাদের বর্ধমানে আনা হয়েছে। খবর পেয়ে বর্ধমান জিআরপি থানায় যান মেমারির বিধায়ক মানব গুহ। তিনি বলেন, ‘‘প্রাথমিক তদন্তের পর এটা প্রেম বা অপহরণের ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না।’’ বিধায়কের দাবি, পড়াশোনার চেয়ে দুই ছাত্রী সমাজমাধ্যমে বেশি সময় কাটাত। সেই কারণে বাবা-মা বকাবকি করত তাদের। ওই কারণে দুই সহপাঠী বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল।
তবে দুই ছাত্রীকে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে এক যুবক গ্রেফতার হয়েছেন। বিধায়ক জানান, জিআরপির তৎপরতায় নিরাপদে দুই ছাত্রীকে বাড়ি ফেরানো সম্ভব হল। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে সমাজমাধ্যমের অতিরিক্ত প্রভাবে বহু কিশোর-কিশোরী ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে পরিবার থেকে সমাজ— সকলকে আরও সচেতন হতে হবে।’’