ঘুষ নিতে গিয়ে দুর্নীতিদমন শাখার (এসিবি) জালে ধরা পড়লেন এক রাজস্ব পরিদর্শক (রেভিনিউ ইনস্পেক্টর)। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের ভূমি ও ভূমি সংস্কার কার্যালয়ের কর্মী তিনি। অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বলদের (ইডব্লিউএস) সার্টিফিকেট দেওয়ার নাম করে ৪ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বুধবার বিকেল ৪টে নাগাদ এই অভিযান চালায় পশ্চিমবঙ্গ দুর্নীতিদমন শাখা। রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে আগামী দিনে এই ধরনের অভিযান সংখ্যায় বাড়বে।
সূত্রের খবর, গত কয়েক দিন ধরেই ওই রাজস্ব পরিদর্শকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ছিল। অভিযোগে দাবি করা হয়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বেআইনি উপায়ে উৎকচ নিচ্ছিলেন তিনি। সম্প্রতি একটি ইডব্লিউএস শংসাপত্র পাইয়ে দেওয়ার জন্য ৪ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন অভিযুক্ত সরকারি কর্মী। অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেন এসিবির আধিকারিকেরা। তাঁকে হাতেনাতে ধরার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনামাফিক বুধবার বিকেলে নির্দিষ্ট সময়ে ফাঁদ পাতে দুর্নীতিদমন শাখার বিশেষ দল। আউশগ্রামের ওই ভূমি সংস্কার কার্যালয়ে আচমকাই হানা দেন এসিবি আধিকারিকেরা। অভিযোগকারী ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষের টাকা হাতে নেওয়ার মুহূর্তেই অভিযুক্ত রাজস্ব পরিদর্শককে হাতেনাতে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা। সরকারি দফতরে এহেন আকস্মিক অভিযানে চরম চাঞ্চল্য ছড়ায় অফিস চত্বরে।
ধৃত ওই সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট ধারায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুর্নীতিদমন শাখা। এই ঘটনায় সরকারি দফতরে দুর্নীতির শিকড় কতদূর গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ দুর্নীতিদমন শাখার পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, সরকারি পরিষেবা দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের হয়রানি কিংবা ঘুষ নেওয়ার কোনো অপচেষ্টাই বরদাস্ত করা হবে না। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ সংখ্যায় বাড়বে, জানিয়েছে এসিবি।